ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে হারের পর লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে বেইন স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারের বিদায়ের মুহূর্তটি এখনও আসেনি। আপাতত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, মেসি আগামী আরও কয়েক মাস জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন এবং এরপরই তার বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন।
আর্জেন্টিনার স্থানীয় বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, মেসিকে বিদায় জানানোর জন্য আর্জেন্টিনায় একটি বিশেষ ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সমর্থকরা তাদের প্রিয় অধিনায়ককে সরাসরি মাঠে বসে শেষবারের মতো বিদায় জানানোর সুযোগ পাবেন। হাজার হাজার ভক্তের উপস্থিতিতে এই বিদায়ী মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আগেভাগেই ম্যাচের ঘোষণা দেওয়া হবে। দীর্ঘ দুই দশক আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে মাঠে নামা মেসির এই বিদায়ি ম্যাচটি দেশটির ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হতে যাচ্ছে।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফলাফল যাই হোক না কেন, আর্জেন্টিনার ফুটবলে মেসির অবদান অনস্বীকার্য। তার নেতৃত্বেই ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল আলবিসেলেস্তেরা। এছাড়া ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা জয়েও তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম। ৩৯ বছর বয়সেও ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে মূল ভূমিকায় ছিলেন এবং টানা দ্বিতীয়বারের মতো দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন। টুর্নামেন্টটিতে তিনি ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন।
জাতীয় দলের হয়ে ১২৫ গোল, ৬৫ অ্যাসিস্ট এবং ২০৭ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েছেন মেসি, যা নিকট ভবিষ্যতে ভাঙা প্রায় অসম্ভব। তার শেষ ম্যাচের আনুষ্ঠানিক তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে লিওনেল স্কালোনির পরবর্তী স্কোয়াডগুলোতে তিনি নিয়মিতই থাকবেন। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন চায় জাতীয় দলের হয়ে মেসির বিদায়টি যেন কোনো সাধারণ সংবাদ সম্মেলন বা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং পুরো দেশের মানুষের অংশগ্রহণে একটি জাতীয় উৎসবের মাধ্যমে এই কিংবদন্তিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানোই কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য।

















