নিউইয়র্ক, হিউস্টন ও সান ফ্রান্সিসকোর পর মায়ামিতে পৌঁছে এক অবিশ্বাস্য দৃশ্যের সাক্ষী হলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক (সূত্র: 1020, 6-89, 9-4, 947-4907, 2088098, 82056, 94-425)। মায়ামিতে পা রাখার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই তিনি বুঝতে পারেন, পুরো শহরটি এখন আর্জেন্টিনার দখলে। চারদিকে আকাশি-সাদা জার্সির জয়জয়কার, যেখানে অন্য কোনো দলের সমর্থকদের উপস্থিতি প্রায় চোখে পড়ার মতো নয়। এমনকি তার হোটেলের পরিবেশও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের দখলে এবং স্থানীয়দের মধ্যে স্প্যানিশ ভাষার প্রাধান্য এত বেশি যে ইংরেজি বলতেও অনেকের সমস্যা হচ্ছে। তিনি জানান, লাতিন আমেরিকার কোনো শহরে আছেন বলে মনে হচ্ছে।
আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা বাংলাদেশ থেকে আসা লোকজনকে দেখে অত্যন্ত আনন্দিত হন এবং বারবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ফুটবলের প্রতি এই ভালোবাসার টানে এক সমর্থক তাকে ডিয়েগো ম্যারাডোনার ছবি উপহার দিয়েছেন। ম্যারাডোনা না মেসি—কাকে বেশি ভালোবাসেন, এমন প্রশ্নের জবাবে সমর্থকেরা জানিয়েছেন যে তারা দুজনকেই সমানভাবে ভালোবাসেন।
আর্জেন্টিনার শেষ ৩২-এর ম্যাচ কেপ ভার্দের বিপক্ষে। ভক্তরা ৫-০ বা ৪-০ ব্যবধানে জয়ের বড় প্রত্যাশা করলেও, তিনি মনে করেন ম্যাচটি অতটা সহজ হবে না। কেপ ভার্দে স্পেনের মতো দলের সঙ্গে ড্র করায় তারা রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলবে বলে তার ধারণা। গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে ম্যাচের ফলাফল। তবে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা ২-০ গোলে জিতবে বলে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তার মতে, মেসিরা গোল আগে পেলে খেলা অনেক সহজ হয়ে যাবে। এছাড়া মেসি অবসর নেবেন কি না, এমন প্রশ্নে সমর্থকেরা মেসি থাকবেন বলেই দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন।
আর্জেন্টিনা দলের জন্য ইতিবাচক দিক হলো মূল খেলোয়াড়রা বেশ সতেজ আছেন। জর্ডানের বিপক্ষে গত ম্যাচে কোচ স্কালোনি নয়জন খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়েছিলেন, যার ফলে ম্যাকঅ্যালিস্টার, রদ্রিগো দি পল, এনজো ফার্নান্দেজরা এখন সতেজ। মেসিও গত ম্যাচে অল্প সময় খেলায় তিনিও ফুরফুরে মেজাজে আছেন।
ব্যক্তিগতভাবে ব্রাজিল সমর্থক হলেও মেসিকে দারুণ পছন্দ করেন বাংলাদেশ দলের এই অধিনায়ক। তিনি হিউস্টনে ব্রাজিলের ম্যাচ এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসনিয়ার ম্যাচও মাঠে দেখেছেন। মায়ামিকে মেসির দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, স্থানীয়দের সমর্থন মেসির পক্ষেই থাকবে। বন্ধুর কাছ থেকে আর্জেন্টিনার জার্সি পেলে তিনিও তা পরে খেলা দেখবেন বলে জানিয়েছেন এবং আরেকটি ‘মেসি-জাদু’ দেখার অপেক্ষায় আছেন।

















