ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী খায়রাবাদ নদীর ভাঙনে শতাধিক পরিবার এখন দিশেহারা। তীব্র ভাঙনের কবলে পড়ে এসব পরিবারের বসতভিটা ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গত এক সপ্তাহে নদী ভাঙনের তীব্রতা এতটাই প্রকট আকার ধারণ করেছে যে, ভরতকাঠি গ্রামের প্রধান সড়কটি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। এর ফলে স্থানীয়দের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং হাজারো মানুষ গৃহবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
এই সংকটময় পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার সকাল ১১টায় ‘খায়রাবাদ নদী ভাঙন প্রতিরোধ কমিটি’র আয়োজনে একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার শতাধিক ভুক্তভোগী নারী ও পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে কমিটির আহবায়ক মো. রুহুল আমিন হাওলাদার এবং সদস্য সচিব মো. রমজান আইকন হৃদয় জানান, ভাঙনের কারণে এলাকার শিক্ষার্থীরা স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যেতে পারছে না। চিকিৎসার অভাবে অনেক রোগী ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এলাকাবাসীর সামনে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে ঝালকাঠি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে দ্রুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ অথবা জিও ব্যাগ ফেলার মাধ্যমে এলাকাটি রক্ষার জোর দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের এই দুর্দশার বিষয়ে নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডু বলেন, নদী ভাঙনের বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমেই অবগত হলাম। আমি দ্রুতই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করব।

















