সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার হলরুমে গণ-অভ্যুত্থানে নিহত সাত শহীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে ফেরার পথে এই হামলার শিকার হন তারা। প্রথমে গোলাপগঞ্জ পৌর শহরের চৌমুহনী এলাকায় এবং পরে দুপুর সোয়া ৩টার দিকে পাঁচ মাইল বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, সভা শেষে গাড়িবহর পৌরসভা গেইট এলাকা অতিক্রম করার সময় স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ‘এনসিপি, ভুয়া’ স্লোগান দেন এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে সমন্বয়ক সারজিস আলমকে বহনকারী একটি গাড়ির পেছনের কাঁচ ভেঙে যায়৷ তবে কেউ হতাহত হয়নি।
এর আগে দুপুরে সভায় যোগ দেওয়ার সময়ও ছাত্রদল কর্মীরা একই ধরনের স্লোগান দিয়েছিলেন। উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম ও সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু ওই মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন। সার্জিস আলম লেখেন, সিলেটের পাঁচ মাইল বাজারে দ্বিতীয় দফায় বিএনপি তাদের ওপর আক্রমণ করেছে। এর ৩০ মিনিট আগে আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার তাদের গাড়িতে হামলা করেছে বিএনপি। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান সরকার দেশে নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থান চায় না, তাই বারবার বিরোধীদলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। তিনি আরও বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ যেভাবে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছিল, এখন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা একইভাবে এনসিপির ওপর হামলা চালাচ্ছে। তবে এনসিপি সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বলে জানিয়েছেন দলের যুগ্ম সমন্বয়ক নাসিরউদ্দিন পাটওয়ারী। তাই আগামীতে কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে তিনি মুখ না খোলার ঘোষণা দেন।
এদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন (দিনার) দাবি করেন, ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী এর সঙ্গে জড়িত নয়। তিনি উল্টো অভিযোগ করেন যে, নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা না করায় সেখানে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবেদ আলী জানান, নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকলেও গাড়িবহর ত্যাগের সময় কয়েকজন ইটপাটকেল ছুড়েছে। এতে গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেউ হতাহত হয়নি। পুলিশ হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। এনসিপি জানিয়েছে, তাদের কর্মসূচি অনুযায়ী কানাইঘাট ও ওসমানীনগরে পদযাত্রা ও সভা নির্ধারিত রয়েছে এবং শুক্রবার সিলেটের আরও তিনটি উপজেলায় তারা সমাবেশ করবে।

















