জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এনসিপি আয়োজিত এক গণবিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান। নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশে চলমান নৈরাজ্য, খুন, গুম এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির দায় নিয়ে তাদের পদত্যাগ করতে হবে।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের চেয়ে সংবিধান সংশোধনের কাজে বেশি ব্যস্ত। জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও যে গণভোট হয়েছিল, সেই গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণ ভোট দিয়েছিলেন; সেই গণভোটকে বাদ দিয়ে সংবিধান কাটাছেঁড়ার দায়িত্ব নেওয়ায় তার পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ব্যর্থতার দায় জ্বালানিমন্ত্রীর ওপরও বর্তায়। আগামীতে এই মিছিলের পরিধি আরও বাড়ানো হবে এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জনাব তারেক রহমানকে ঘেরাও করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
বর্তমান সরকারকে ‘দুর্নীতিবাজ মাফিয়া সরকার’ হিসেবে অভিহিত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিগত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ পারেনি, বিএনপিও আওয়ামী লীগ থেকে বাংলাদেশের জনগণকে রক্ষা করতে পারেনি। তারা নিজেরাই নিজেদের রক্ষা করতে পারেনি, জনগণকে কীভাবে রক্ষা করবে? ফলে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম আজ হতাশ। তিনি অভিযোগ করেন, তারেক রহমানের কাছে দেশ পরিচালনার কোনো পরিকল্পনা নেই, বরং তাদের লক্ষ্য দুর্নীতি ও লুটপাট। একতরফা সংবিধান সংশোধন কমিটি অবিলম্বে বাতিল করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিও জানান তিনি।
ভারতের সঙ্গে করিডোর ও গঙ্গা চুক্তি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ অবৈধ করিডোর মেনে নেবে না এবং গঙ্গা চুক্তিতে ন্যায্য হিস্যায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এছাড়া সীমান্তে হত্যা ও পাহাড়ে অশান্তি সৃষ্টির চক্রান্ত থেকেও বর্তমান সরকার দেশকে রক্ষা করতে পারবে না। এই সরকার আসার পরে ১০ জনেরও অধিক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার শিকার হয়েছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সমাবেশে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন নাহিদ ইসলাম। ঢাকা মহানগর দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং উত্তরে আসিফ মাহমুদ নির্বাচন করবেন বলে জানানো হয়। এ সময় দলের সদস্য সচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, আবদুল্লাহ আল আমিন, সারোয়ার তুষার ও মনিরা শারমিনসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

















