ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটার প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। তবে এই নির্বাচন থেকে দুটি বিপরীতমুখী ও অদ্ভুত বিষয় সামনে এসেছে। প্রথমত, নির্বাচনে কোনো পক্ষই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। বেশির ভাগ ভোটার নেতানিয়াহুর জোটকে ভোট না দেওয়ার পরও সম্ভাব্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে আপাতত তিনিই ইসরায়েলের ক্ষমতায় থাকছেন। দ্বিতীয়ত, আরব ইসরায়েলিদের অভাবনীয় সাফল্য। নির্বাচনী প্রচারে যাঁদের কণ্ঠ প্রায় উপেক্ষিত ছিল, তাঁরাই এখন সরকার গঠনের ‘কিংমেকার’ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছেন, যদিও ইসরায়েলের মূল ইহুদি রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে আরবদের ক্ষমতার অংশীদার হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে আসছিল।
বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে নেতানিয়াহুর জোট ৫২টি আসন পাচ্ছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের বাধা দূর করতে তিনি বিরোধী শিবিরের কোনো দলকে নিজের দিকে টানার চেষ্টা করবেন। এই মুহূর্তে নেতানিয়াহুর লক্ষ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের দল ‘টুগেদার’, যারা ১২-১৩টি আসন পাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেনেটের দলকে কাছে টানতে পারলে নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ৬২ বা ৬৩-তে পৌঁছাতে পারে। তবে বাস্তব চিত্র হলো, বেনেট ও ইয়ার লাপিদ নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্যই জোট গঠন করেছিলেন এবং বেনেট শুরু থেকেই আরব দলগুলোর সঙ্গে কাজ না করার বিষয়ে অনমনীয় ছিলেন।
আগামী কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস ধরে সরকার গঠনের রাজনৈতিক সমীকরণ ও দর-কষাকষি চললেও নেতানিয়াহুই প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকবেন। যদি কোনো সরকার গঠন করা সম্ভব না হয়, তবে নতুন নির্বাচন ঘোষণা হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকবেন। ইতিমধ্যে নাফতালি বেনেট সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছেন যে, নেতানিয়াহু নির্বাচনে হেরে গেছেন এবং তাঁর সরকারের বাড়ি ফেরার সময় হয়েছে। নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের আরেক নেতা অ্যাভিগদর লিবারম্যানও যেকোনো ধরনের সংখ্যালঘু সরকারের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। এমন অচলাবস্থায় প্রবীণ রাজনীতিকদের অনেকে নেতানিয়াহুকে ছেড়ে গাদি আইজেনকটের জোটে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
ইসরায়েলের ভেতরে নতুন যুদ্ধের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে নেতানিয়াহু ইরান বা প্রতিবেশী কোনো দেশের সঙ্গে সংঘাত উসকে দিতে পারেন। যুদ্ধের উত্তেজনা জোট গঠনের আলোচনাকে প্রভাবিত করতে পারে অথবা ‘যুদ্ধকালীন জাতীয় ঐক্যের সরকার’ গঠনের দাবিকে জোরালো করতে পারে, যা নেতানিয়াহুর ক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করবে। প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু ইতিমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে এ ধরনের ধারণার আভাস দিয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলে দ্রুত একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য সরকার গঠিত হোক তা চাইলেও, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেই সেই সরকারের রূপরেখা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। শেষ পর্যন্ত উদ্ভূত রাজনৈতিক জটিলতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোকে পারস্পরিক ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করতে বাধ্য করতে পারে। পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নির্ধারণ করবেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।

















