শিক্ষা, বাড়ি ভাড়া, লন্ড্রি, ইন্টারনেট, টেইলারিং, সেলুন ও কুরিয়ারসহ বিভিন্ন সেবা ও ব্যবসা খাতকে নতুন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০০৯ সালের বিদ্যমান আইনটিকে যুগোপযোগী করে ‘ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ নামে একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। নতুন এই আইনের মাধ্যমে ই-কমার্স ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবসায় নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে এবং বিভিন্ন অপরাধে শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণ বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। খসড়া আইনে বিভিন্ন অপরাধে শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। আইনের ৩৭ ধারায় এক বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। বর্তমান আইনে এ ধারায় কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
অনলাইন ব্যবসার দ্রুত সম্প্রসারণ সত্ত্বেও বর্তমান আইনের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতারিত ভোক্তাদের অভিযোগের প্রতিকার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। খসড়া অনুযায়ী, এখন থেকে নিবন্ধন ছাড়া কোনো ডিজিটাল ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ থাকবে না। এছাড়া পণ্য বা সেবার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ই-কমার্স বা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে গড়ে ওঠা ব্যবসাকে আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। তিনি আরও জানান, নতুন আইনে জরিমানার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আপিল করার সুযোগও রাখা হচ্ছে।
নতুন আইনে অনলাইন জুয়া ও বেটিংয়ের আয়োজন বা এতে সহায়তার বিরুদ্ধে বিশেষ বিধান যুক্ত করা হয়েছে। খসড়ার ৪১-এর ক ধারা অনুযায়ী, নিষিদ্ধ পণ্য, ওষুধ বা সেবা বিক্রির বিজ্ঞাপন প্রকাশ কিংবা অনলাইন জুয়া বা বেটিংয়ের সাথে জড়িত থাকলে দুই বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক তিন লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া বাজার সংকট সৃষ্টির উদ্দেশ্যে পণ্য বা ওষুধ অবৈধভাবে মজুত করলে ৪৩ক ধারার অধীনে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে তদারকির জন্য পেমেন্ট গেটওয়ে ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডারদের তথ্য সংগ্রহের ক্ষমতা পাবে অধিদপ্তর। খসড়ায় ২১ক ধারা যুক্ত করে ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, নবায়ন এবং প্রয়োজনে নিবন্ধন স্থগিত বা বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া ডিজিটাল গিফট কার্ড, ওয়ালেট বা ক্যাশ ভাউচার ব্যবহারের সুযোগও বন্ধ করতে নতুন ধারা যুক্ত হচ্ছে। এছাড়া ওষুধে ভেজাল বা নকল ওষুধ প্রস্তুতের বিষয়টি অনুসন্ধানে মহাপরিচালক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশের সহায়তা নিতে পারবেন।
ভোক্তা সংগঠন ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, অনলাইন ব্যবসার দ্রুত প্রসারের তুলনায় ২০০৯ সালের আইনটি আর সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার পর খসড়াটি মতামতের জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে এবং পরবর্তীতে আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং শেষে মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

















