রাজধানীর মিরপুরে বাড়ি দখল, মারধর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেল নবগঠিত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) নাম পরিবর্তনের পর এই প্রথম কোনো মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেল সংস্থাটি। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ প্রদান করেন।
আদালতে মো. মিজানুর রহমান ওরফে বাচ্চু নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেছিলেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে এসআরবিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। সিএমএম আদালতের নাজির আবুল হাসান কানন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এই প্রথম এসআরবিকে কোনো মামলা তদন্তের নির্দেশ দিলেন আদালত।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, রাজধানীর মিরপুর হাউজিং এস্টেটের একটি বহুতল ভবনের মালিক মো. ইউনুস আলী ও মিসেস রুমা আক্তার স্বপরিবারে কানাডায় বসবাস করছেন। তাদের চাচা মিজানুর রহমান বাংলাদেশে থাকা এই সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করছেন। আসামি হেমায়াত উদ্দিন সুমন, মো. নাজমুল হোসেন ও মুন্নী আক্তার মিষ্টি মালিকদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটি দখলের চেষ্টা করছেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই হেমায়াতের নেতৃত্বে আসামিরা জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা চালান। বাধা দিলে তারা প্রাণনাশের হুমকি দেন। একপর্যায়ে হেমায়াত বাদীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা বাড়িতে ভাঙচুর চালান এবং নগদ দুই লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যান।
তদন্তের আদেশে আদালত উল্লেখ করেন, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইনের ১০(গ) ধারায় মাদক, সাইবার অপরাধ ও ভূমি দস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু মামলাটি ভূমি সংক্রান্ত, তাই এসআরবি আইনের ৫(২) ধারা অনুযায়ী মহাপরিচালককে যেকোনো ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা আদালতের রয়েছে। এছাড়া আইনের ১৫(২) ধারা অনুযায়ী, মহাপরিচালককে এসআরবি ইউনিটে কর্মরত পুলিশের উপপরিদর্শক পদমর্যাদার নিচে নয় এমন কোনো সদস্যের মাধ্যমে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

















