নিউজিল্যান্ডে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে সোমবার আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ফেসবুকের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে শিশু-কিশোরদের দূরে রাখতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের নেওয়া পদক্ষেপের সাথে এবার নিউজিল্যান্ডও যুক্ত হলো। ওয়েলিংটন থেকে এএফপির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এর আগে গত ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ একই পথ অনুসরণ করেছে।
প্রস্তাবিত এই আইনের অধীনে মেটার মতো কোম্পানিগুলো যদি নিয়ম না মানে, তবে তাদের বৈশ্বিক রাজস্বের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন বলেন, বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের যে ক্ষতি হচ্ছে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি জানান, ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রতি তিনজন শিশুর একজন প্রতিদিন অন্তত পাঁচ ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় ব্যয় করে। লাক্সনের মতে, এসব প্ল্যাটফর্ম শিশুদের আসক্তি তৈরি করে এবং তাদের এমন চাপের মুখে ফেলে যার জন্য তারা প্রস্তুত নয়। এর ফলে তাদের পারিবারিক জীবন, মানসিক স্বাস্থ্য, ঘুম ও শিক্ষাক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
নতুন এই আইনে প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীর বয়স ১৬ বছরের বেশি কি না, তা যাচাইয়ের জন্য যুক্তিসংগত পদক্ষেপ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অ্যাকাউন্টের তথ্য, মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, ডিজিটাল পরিচয় সেবা এবং আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া কোম্পানিগুলোকে তাদের সৃষ্ট ঝুঁকি মূল্যায়ন করে তা কমানোর পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রতিবেদন দিতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী এরিকা স্ট্যানফোর্ড স্পষ্ট করেছেন যে, এই বিলে শিশু বা তাদের অভিভাবকদের জন্য কোনো জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়নি, বরং আইনি বাধ্যবাধকতা শুধুমাত্র প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপরই আরোপ করা হয়েছে।
তবে এই বিলটি শেষ পর্যন্ত পাস হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ন্যাশনাল পার্টির জোটসঙ্গী লিবার্টেরিয়ান অ্যাক্ট পার্টি ও পপুলিস্ট এনজেড ফার্স্ট বিলটির বিরোধিতা করেছে। পপুলিস্ট এনজেড ফার্স্ট জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার আইন ব্যর্থ হওয়ায় তারা একে সমর্থন করবে না। অ্যাক্ট পার্টির মতে, এই আইন কার্যকর হবে না এবং কিশোর-কিশোরীরা সহজেই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যেতে পারবে। এদিকে প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি জানিয়েছে, তারা সমর্থন দেওয়ার আগে বয়স যাচাই পদ্ধতি এবং কোন কোন প্ল্যাটফর্ম এর আওতায় পড়বে তা নিয়ে বিস্তারিত জানতে চায়। দলের মুখপাত্র রুবেন ডেভিডসন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখার কথা জানিয়েছেন।

















