অন্যান্য

নভেম্বরের সেই শ্বাসরুদ্ধকর দিনগুলো: স্মৃতিচারণ

প্রতিবেদক
ভোলায় ২৪ হাজার কেজি ইউরিয়া সারসহ ৮ পাচারকারী আটক ভোলায় ২৪ হাজার কেজি ইউরিয়া সারসহ ৮ পাচারকারী আটক জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করলেন যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করলেন যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন টেকনাফে মানবপাচার চক্রের সাথে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, আহত ১ সেনা টেকনাফে মানবপাচার চক্রের সাথে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, আহত ১ সেনা ১১ নভেম্বর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদন শুরু রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঢাবি লাইব্রেরির এক টাকা জরিমানা দিতে ব্যাংকের লাইনে শিক্ষার্থীরা ঢাবি লাইব্রেরির এক টাকা জরিমানা দিতে ব্যাংকের লাইনে শিক্ষার্থীরা ঠাকুরগাঁওয়ে ছয় দিনব্যাপী ৩য় আঞ্চলিক কাব ক্যাম্পুরি শুরু ঠাকুরগাঁওয়ে ছয় দিনব্যাপী ৩য় আঞ্চলিক কাব ক্যাম্পুরি শুরু এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালুর পথে বাংলাদেশ, ২০২৭-২৮ হবে ৯ মাসের এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালুর পথে বাংলাদেশ, ২০২৭-২৮ হবে ৯ মাসের ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশের ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশের সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা পর্যালোচনায় নতুন উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা পর্যালোচনায় নতুন উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন
সব খবর

১৯৭১ সালের মার্চে শুরু হওয়া মুক্তিযুদ্ধ ডিসেম্বরে শেষ হলেও বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে বিদেশি সেনাবাহিনীমুক্ত হয় ১৯৭২ সালের মার্চে। এই দীর্ঘ সময়ে শত্রু-মিত্র সব বিদেশি সেনার প্রস্থান সম্পন্ন হয়। এরপর থেকেই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠন ও অগ্রগতির পাশাপাশি লেখকের বাসনা ছিল, দেশের মাটি যেন আর কখনো কোনো পরদেশি বাহিনীর পদানত না হয়। সেই লক্ষ্যেই তিনি নিজেকে নিবেদিত করেছিলেন।

কিন্তু সাড়ে তিন বছর না যেতেই, ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের এক সকালে, ৩ তারিখ হবে বোধ হয়, জনমুখে গুজব বা সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে যে দেশে আমন্ত্রিত হয়ে কোনো বিদেশি বাহিনী ঢুকবে এবং তাদের যুদ্ধজাহাজ কুর্মিটোলা বিমানবন্দরে নামবে। এই খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ জনগণ বিমানবন্দরের দিকে ছুটে যায় এবং রানওয়েতে শুয়ে পড়ে বিমান নামতে বাধা দেয়। এটি ছিল নিরস্ত্র জাতির সশস্ত্র সম্ভাব্য আগমনের বিরুদ্ধে এক বীরোচিত প্রতিরোধ। এই গুজবটি সত্য না হলেও, এটি সাধারণ মানুষের মনের প্রতিফলন ছিল। ১৫ আগস্ট অভ্যুত্থানে শেখ সাহেবের সপরিবারে মর্মান্তিকভাবে নিহত হওয়ার কিছুদিন আগে লেখক রেডিওতে কাজ শুরু করেন এবং আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী ঘটনাবলি রেডিও অফিসের মতো সংবাদ কেন্দ্রস্থল থেকেই দেখার ও শোনার সুযোগ পান।

৩ নভেম্বরের ভোরে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের চারজন প্রধান নেতাÑতাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং কামারুজ্জামানকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তারা বিনাবিচারে আটক ছিলেন এবং এই হত্যাকাণ্ড মর্মান্তিক ছিল। এই হত্যার কারণ নিয়ে নানা জল্পনা ছিল। একটি ধারা অনুযায়ী, খালেদ মোশাররফ তাদের দিয়ে বিকল্প সরকার গঠন করে বিদেশি বাহিনীকে মিত্রতা চুক্তির আওতায় আমন্ত্রণ জানাতে চেয়েছিলেন। তাই তার প্রতি সহানুভূতিশীল সামরিক অফিসার বা তাদের কারো নির্দেশ বা নির্দেশ ছাড়াই মোশাররফবিরোধী কোনো এক বা একাধিক সৈন্য এই হত্যাটি করে সম্ভাব্য বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ ঠেকাতে চেয়েছিল। অন্য একটি ধারা অনুযায়ী, বিচারপতি সায়েমের দুর্বল রাষ্ট্রপতির অধীনে বেসামরিক সরকারের মোড়কে প্রকৃত সামরিক শাসনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের উচ্চাভিলাষ ছিল খালেদ মোশাররফের। ওই চার নেতার মতো শক্তিশালী বেসামরিক রাজনৈতিক নেতার উপস্থিতি তার আকাঙ্ক্ষিত সামরিক শাসনের পথে বড় প্রতিবন্ধক হবে বলে তারই ক্ষমতার স্বার্থে তাদের হত্যা করা হয়।

৩ থেকে ৭ নভেম্বর, ১৯৭৫ পর্যন্ত দেশে কার্যত কোনো সরকার ছিল না। ৩ নভেম্বরের ভোরের আগ পর্যন্ত যে সরকার ছিল, খালেদ মোশাররফের সেনা অভ্যুত্থানে তা উৎখাত হয়ে গিয়েছিল। তার বিকল্প হিসেবে খালেদ মোশাররফের ক্ষমতা দখল করে সরকার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তখন উৎখাতকৃত রাষ্ট্রপতির বিকল্প হিসেবে, নতুন বেসামরিক সরকারের প্রধান হিসেবে তখনকার প্রধান বিচারপতি সায়েমকে তার বাড়ি থেকে ধরে আনা হয়। তিনি বাড়ির ভেতর টেবিলের নিচে লুকিয়ে ছিলেন বলে শোনা যায়। তাকে রাষ্ট্রপতি করে ঘোষণা দেওয়া হয়। যার বিকল্প হিসেবে তাকে রাষ্ট্রপতি করা হয়, সেই রাষ্ট্রপতি মোশতাককে নতুন সেনাপতি খালেদ মোশাররফের অভ্যুত্থান পক্ষের সৈন্যরা ধরে নিয়ে গেলে তাকে বেদম প্রহার করে ‘হাড়গোড় ভেঙে দেওয়া’ হয়। একইভাবে পূর্বতন সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমানকেও ধরে নিয়ে গিয়ে আটক করা হয়। দেশ এক শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় ছিল ৩ তারিখ থেকে।

এই সময়ে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে প্রায়ই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডক্টর মুহম্মদ আজীজ (আজীজ স্যার)-এর সঙ্গে বসতেন কিছু ছাত্র। দেশের পরিস্থিতি, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রেক্ষিতে বোঝার তার অসাধারণ বোধ ছিল।

৬ নভেম্বর পত্রিকায় (সম্ভবত বাংলাদেশ টাইমস-এ) প্রকাশিত একটি ছবিতে খালেদ মোশাররফের মুখে এক অসাধারণ হাসি লক্ষণীয় ছিল। সেখানে তিনি ব্রিগেডিয়ার থেকে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি ও সেনাপ্রধানের পদে অধিষ্ঠিত হচ্ছিলেন। নৌবাহিনীপ্রধান এম এইচ খান এবং বিমান বাহিনীপ্রধান তোয়াব তাকে পদক পরিয়ে দিচ্ছিলেন। তৃতীয় সেনাপ্রধান, জিয়াউর রহমানের কোনো উপস্থিতি সেখানে ছিল না। আজীজ স্যার ছবিটি দেখিয়ে খালেদ মোশাররফের মুখের ওই হাসিটি তাৎপর্যপূর্ণ বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ছবিতে নৌবাহিনীপ্রধান ও বিমান বাহিনীপ্রধান নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে পদকাদি পরিয়ে দিলেও, খালেদ মোশাররফের মতো হাসি তাদের মুখে ছিল না। আজীজ স্যার যা বোঝাতে চেয়েছিলেন তা হলো, খালেদ মোশাররফ জনসমক্ষে প্রচারযোগ্য আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি আদায় করেছিলেন বলপূর্বক, আর বাকি দুই সেনাপ্রধান তা বাধ্য হয়ে দিলেও তাদের আন্তরিক সমর্থন ছিল না। এক দিন পরই তা কার্যত দেখা যায়।

৩ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে কার্যত নিয়ন্ত্রণক্ষম কোনো সরকার ছিল না। দেশ ছিল সম্পূর্ণরূপে নৈরাজ্যের কবলে। পূর্ববর্তী রাষ্ট্রপতিকে উৎখাত ও বন্দি করে তার জায়গায় ভীত-সন্ত্রস্ত প্রধান বিচারপতিকে ধরে এনে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দিলেও, তিনি কোনো সরকার নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনার মতো অবস্থায় ছিলেন না। যে চার নেতাকে দিয়ে একটি বেসামরিক সরকার দাঁড় করানো যেত, তারা সবাই ৩ নভেম্বরের ভোর রাতে জেলখানায় নিহত হন। এতে জনগণ বুঝতে পারছিল, বিচারপতি সায়েমের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আসলে কোনো সরকারই ছিল না। খালেদ মোশাররফের সামরিক পক্ষ হয়তো রাষ্ট্রপতি ভবন বা সেনা ছাউনির কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও, রেডিও স্টেশনসহ দেশ বা বিদেশের সঙ্গে তাৎক্ষণিক গণমাধ্যমগত যোগাযোগের উপায় এবং বিদেশি সাহায্য বা হস্তক্ষেপের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হয়, প্রধানত জনগণের হস্তক্ষেপে। ১৯৭৫ সালের ৩ থেকে ৭ নভেম্বর, এই কদিন কোনো সরকার না থাকায় সাধারণ জনগণের সচেতন প্রতিরোধের মুখে বিদেশি দখলের সম্ভাবনাও প্রতিহত হয়। ফলে প্রায় এক সপ্তাহ কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা ছাড়াই বাংলাদেশ যেন ছিল সম্পূর্ণরূপে ‘আল্লাহর হাওলা’!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখকের সহপাঠী আতিয়ার রহমান (আতিক), যিনি মুক্তিযুদ্ধের পর দৈনিক গণকণ্ঠের সঙ্গে যুক্ত হন, ৬ তারিখ রাতে বা ৭ তারিখ সকালে জানান যে হাজার হাজার গ্রামবাসী ঢাকা আসছে বিদেশি বাহিনী বা তাদের তাঁবেদার কারো হাতে ঢাকা দখল হওয়ার সম্ভাবনা ঠেকাতে। আতিক মুক্তিযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত ‘জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল’ (জাসদ)-এ যোগ দিয়েছিল। দলটি লেখকের পছন্দ ছিল না এবং তিনি তাদের সন্দেহের চোখে দেখতেন। তাদের নামের মধ্যে নাৎসিবাদী স্বৈরতন্ত্র ও ষড়যন্ত্রের ঘ্রাণ পেতেন। জাসদের সূত্রেই সম্ভবত আতিকের পাওয়া গ্রামবাসী কর্তৃক ঢাকাবাসী জনগণ ও দেশপ্রেমিক সিপাহিসহ রাজধানী ঢাকা দখলের উদ্যোগের খবরকে বিদেশি স্বার্থে বা দেশে বিশৃঙ্খলা বিস্তারমূলক কিছু মনে হয়নি। খবরটি ছিল বিদেশি দখলের সম্ভাবনা প্রতিহত করার।

খালেদ মোশাররফ সম্পর্কে গুজব বা খবর যাই হোক, জনসাধারণ তাকে বিদেশি স্বার্থের পক্ষের বলে মনে করছিল। একপর্যায়ে তিনি নাকি আগরতলার দিকে পালিয়ে যেতে উদ্যত হলে একজন সৈন্য উল্টোদিক থেকে এসে তার জিপে ধাক্কা দিলে তা থেমে যায় এবং তখনই নাকি তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি নাকি ঘটে লেখকের বাসার অতি নিকট, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে। সাধারণ লোকজন গিয়ে নাকি তার জীবিত বা মৃতদেহকে লাথি মেরে এতটাই বিকৃত করে ফেলে যে, তার মাথা নাকি ছিঁড়ে দলিত-মথিত হয়ে যায়। লেখক নিজে দেখেননি, তবে জনমুখে এমনটিই শুনেছিলেন। হয়তো কিছুটা অতিরঞ্জিত, কিন্তু সে সময় জনমনে বিদেশি দখলের সম্ভাবনা যে প্রচণ্ড জনরোষ তৈরি করেছিল, এমন সব কথা তারই বহিঃপ্রকাশ ছিল। এই নৃশংসতা ছিল অমানবিক।

৭ নভেম্বর তেজগাঁওয়ের হলিক্রস কলেজের গলি হয়ে আজীজ স্যারের বাসায় যান লেখক। সেখান থেকে বেরিয়ে, সম্ভবত বেলা ১১টার দিকে বা আরো পরে ফার্মগেটের মোড়ে, তিনি এমন সব দৃশ্য দেখেন যাতে দেশে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ আর বিশৃঙ্খলার লক্ষণ দেখতে পান। মোড়ে বহু লোক ছিল, সবাই ছুটোছুটি করছিল। একটি সামরিক ট্রাক ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছিল। ট্রাকটিতে দাঁড়িয়ে জিয়াউর রহমান, হাতে একটি ‘হ্যান্ড মাইক’ ধরে বলছিলেন, ‘আমি জিয়া বলছি, আপনারা যার যার ব্যারাকে ফিরে যান’ বা ওই মর্মে কিছু। পরে জানা যায়, সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের অংশ হিসেবে জাসদের ধারণায় সাধারণ সৈন্যরা সব সামরিক কর্মকর্তাকে মেরে ফেলতে শুরু করেছিল। ‘সিপাহি জনতা ভাই ভাই, সিপাহির ওপরে কেউ নাই’ বা ওই মর্মে স্লোগান দিচ্ছিল তারা। সব অফিসার মেরে ফেলাটা সেনাবাহিনীকে মেধা ও অভিজ্ঞতাশূন্য করে দেশের প্রতিরক্ষা ধ্বংসের পথ বলে মনে হয়েছিল। জিয়াউর রহমানের ওই হ্যান্ড-মাইক হাতে সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরে যেতে বলায় সৈন্যরা সরে যাচ্ছিল, যা তার জনপ্রিয়তা ও নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ ছিল।

ওই ফার্মগেট মোড়ে জিয়ার ট্রাক আসতে থাকলে সৈন্য বা সাধারণ জনগণ যারাই ছিল, এদিক-ওদিক ছুটে সরে যাচ্ছিল। এই ছোটাছুটির ভেতর লোকজন একজন সৈন্যকে ধরে ফেলে এবং সে বিদেশি সৈন্য বলে চেঁচাতে শুরু করে। সৈন্যটির রঙ ছিল খুবই কালো এবং তার সামরিক পোশাক ছিল জলপাই রঙের, যা সে সময় বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর খাকি পোশাকের পরিবর্তে প্রতিবেশী মিত্রবাহিনীর পোশাকের মতো ছিল। লেখক ভাবেন, সে সম্ভবত রক্ষীবাহিনীর সদস্য হবে। কিন্তু লোকজনেরা বলছিল সে মাদ্রাজ রেজিমেন্টের সৈন্য হবে, কারণ সে বাংলা বলতে পারছিল না এবং ওমন কালো চামড়ার সৈন্য মাদ্রাজ রেজিমেন্টের হয়। লেখক নিশ্চিত নন, তবে রক্ষীবাহিনীর সদস্যদের গাত্রবর্ণ কালো হওয়া, তাদের পোশাক ও যানবাহন প্রতিবেশী দেশের মতো হওয়া এবং দেশে তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

জিয়াউর রহমানকে নাকি বন্দি অবস্থা থেকে সাধারণ সৈন্যরা ছাড়িয়ে এনে ৭ নভেম্বর সেনাপ্রধান হিসেবে পুনর্বহাল হয়ে দেশ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। একইভাবে সাধারণ সৈন্যরাই ৩ নভেম্বরের আগের রাষ্ট্রপতি মোশতাককেও ছাড়িয়ে এনে, শরীরের ‘হাড়গোড় ভাঙা অবস্থা’ স্ট্রেচারে করে রেডিও বাংলাদেশে নিয়ে আসে। তখন তিনি একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। সেই বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশ ছোট হতে পারে, কিন্তু আমরা জাতি বড়’ বা ওই মর্মেই কিছু। সেই তরুণ বয়সে, দেশপ্রেম ও গর্বে আপ্লুত হৃদয়ে সেদিন ওই কথা কয়টি দাগ কেটে থাকে।

৩ নভেম্বর-পূর্ববর্তী সেই রাষ্ট্রপতি ৭ নভেম্বরে আর রাষ্ট্রপতি হিসেবে পুনর্বহাল হতে রাজি হননি। প্রধান বিচারপতি সায়েমই রাষ্ট্রপতি থেকে যান। আর জিয়াউর রহমানসহ তিন সেনাপ্রধানের সরকারের আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব দেন। কার্যকর নেতৃত্ব জিয়াউর রহমানের হাতেই থাকে। এভাবে ৩ থেকে ৭ নভেম্বরের সরকারহীনতার নৈরাজ্য থেকে মুক্ত হয়ে জাতি আবার তার পায়ে দাঁড়িয়ে অগ্রযাত্রায় অগ্রসর থাকার সুযোগ পায়। কিন্তু এই কটা দিনে জাতি হারায় খালেদ মোশাররফের মতো একজন মেধাবী সমরনায়ক আর জেলহত্যায় নিহত চার নেতার মতো অভিজ্ঞ জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা। এসবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনাপরম্পরায় জাতি কর্নেল তাহেরের মতো আরেকজন মেধাবী সমরনায়ককেও হারায়। সিপাহি জনতার জাতীয় সংহতিতে বৈপ্লবিক প্রতিরোধে জাতি রক্ষা পাওয়ার মহান আনন্দের সঙ্গে মিশ্রিত সেই ক্ষয়ের শোকের বেদনা।

তাদের নামটাতে নাৎসিবাদী স্বৈরতন্ত্র আর ষড়যন্ত্রের ঘ্রাণ ছিল যেন, তাদের নামটি ছিল নাৎসি দলের নামের (National Socialist Party-এর আক্ষরিক অনুবাদ)।

তখন আন্তর্জাতিক সম্পর্কে স্নাতকোত্তরের শেষদিকে, যুদ্ধকৌশল বিদ্যা (Strategic Studies’) এ বিশেষজ্ঞায়ন (Specialisation) করছি।

ভোলায় ২৪ হাজার কেজি ইউরিয়া সারসহ ৮ পাচারকারী আটক ভোলায় ২৪ হাজার কেজি ইউরিয়া সারসহ ৮ পাচারকারী আটক জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করলেন যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করলেন যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন টেকনাফে মানবপাচার চক্রের সাথে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, আহত ১ সেনা টেকনাফে মানবপাচার চক্রের সাথে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলি, আহত ১ সেনা ১১ নভেম্বর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদন শুরু রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঢাবি লাইব্রেরির এক টাকা জরিমানা দিতে ব্যাংকের লাইনে শিক্ষার্থীরা ঢাবি লাইব্রেরির এক টাকা জরিমানা দিতে ব্যাংকের লাইনে শিক্ষার্থীরা ঠাকুরগাঁওয়ে ছয় দিনব্যাপী ৩য় আঞ্চলিক কাব ক্যাম্পুরি শুরু ঠাকুরগাঁওয়ে ছয় দিনব্যাপী ৩য় আঞ্চলিক কাব ক্যাম্পুরি শুরু এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালুর পথে বাংলাদেশ, ২০২৭-২৮ হবে ৯ মাসের এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালুর পথে বাংলাদেশ, ২০২৭-২৮ হবে ৯ মাসের ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশের ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশের সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা পর্যালোচনায় নতুন উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা পর্যালোচনায় নতুন উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন
সব খবর