পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামে শিশু শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি (১০) হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে উত্তেজিত গ্রামবাসী। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর শুরু হওয়া এই তাণ্ডব প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয়। স্থানীয়রা হাতুড়ি, শাবল ও সিমেন্টের খুঁটি ব্যবহার করে অভিযুক্তের বাড়ির মূল গেট ও সীমানা প্রাচীর গুঁড়িয়ে দেয়। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা ঘরের ভেতর প্রবেশ করে আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক নারী ও পুরুষ উপস্থিত হয়ে আসামির ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন। অনেকের দাবি, প্রশাসন যদি সঠিক বিচার না করে, তবে যেন অপরাধীদের তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবে গ্রামবাসীর বিশাল জনস্রোতের তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বাধা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়, যখন আল ফালাহ একাডেমির চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও পাওয়ারলুম কারখানা মালিক কামাল প্রামাণিকের মেয়ে কলি আইসক্রিম কিনতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি ও পা কাটা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এই ঘটনায় প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক (৫৫) ও তার বাড়ির ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে, মোস্তফার দোকানে আইসক্রিম কিনতে গেলে কলিকে কৌশলে ডেকে নিয়ে গণধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। অপরাধ ঢাকার জন্য তারা শিশুটির দুই পা কেটে বস্তায় ভরে রাখে এবং স্যাভলন দিয়ে ঘরের মেঝে পরিষ্কার করে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের রোববার আদালতে তুলে রিমান্ড আবেদন করা হবে।

















