রাজধানীর বনানীর ২৬ নম্বর সড়কের রাজউক কোয়ার্টারে ঢাকা ওয়াসার পানির সংযোগের মিটার বাক্সে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। শুক্রবার সকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ‘একশোতে একশো’ শীর্ষক ডেঙ্গু বিরোধী বিশেষ অভিযানের সময় এই চিত্র শনাক্ত হয়। পরিদর্শক দল মিটার বাক্সের ঢাকনা খুলে গভীর অংশে জমে থাকা পানিতে বিশেষ চামচ দিয়ে পরীক্ষা করলে সেখানে মশার লার্ভা কিলবিল করতে দেখা যায়। পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা ওষুধ ছিটিয়ে লার্ভাগুলো ধ্বংস করেন।
ডেঙ্গু বিস্তার ঠেকাতে ডিএনসিসির এই বিশেষ কর্মসূচি ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে। অভিযানের ষষ্ঠ দিনে মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সকাল পৌনে ৯টার দিকে মশা নিধনকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, কুইক রেসপন্স দল এবং বিডি ক্লিনের শতাধিক স্বেচ্ছাসেবীদের ব্রিফিং দেওয়া হয়। এরপর ১০টি আলাদা দল প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসের লক্ষ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় রওনা হয়। প্রতিটি দলে সুপারভাইজার, ওষুধ ছিটানোর কর্মী, কুইক রেসপন্স সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবীরা যুক্ত ছিলেন।
প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, গত ১৫ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত উত্তর সিটির আওতাধীন হাসপাতালগুলো থেকে ১ হাজার ৬৭৮ জন ডেঙ্গু রোগীর তথ্য সংগ্রহ করে ১০০টি ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করা হয়েছে। রোগীর ঠিকানাভিত্তিক নজরদারি এবং প্রজননস্থল ধ্বংসই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
এদিকে রাজউকের যান্ত্রিক ওয়ার্কশপে অভিযানে গিয়েও এডিস মশার লার্ভার অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সেখানে এক্সকাভেটরের খনন করা অংশ, পুরোনো টায়ার, বিস্কুটের পাত্র ও বোতলে জমে থাকা পানিতে মশার প্রজননস্থল তৈরি হয়েছিল। সেখানকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা জানান, মশার উপদ্রব অনেক বেশি এবং রাজউকের এক কর্মী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১০ দিন হাসপাতালে ছিলেন।
বনানীর রাজউক কোয়ার্টারে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সময় সুপারভাইজার আবদুল কুদ্দুসের নেতৃত্বে দলটির সদস্যরা পলিথিন, বোতল ও নারকেল গাছের গর্তসহ বিভিন্ন স্থান থেকে লার্ভা ধ্বংস করেন। কোয়ার্টারের বাসিন্দা ও রাজউকের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করেন, আবাসিক এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য কর্মী থাকলেও তারা সঠিকভাবে কাজ করেন না। এছাড়া ভবনের বাসিন্দাদের অসচেতনতার কারণেও ময়লা জমে লার্ভা তৈরির সুযোগ তৈরি হয়। ওই কোয়ার্টারের ১২ নম্বর ভবনের এক বাসিন্দা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন বলেও জানা গেছে।

















