প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২: ২৮। অনলাইন বেটিং এবং ড্রেসিংরুমের গোপন তথ্য ফাঁসের গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ক্রিকেটে অস্থিরতা তুঙ্গে। এই বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা দলের তারকা উইকেটরক্ষক-ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানের মোবাইল ফোন জব্দ করা, আদালতে আইনি আবেদন খারিজ এবং সবশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলে (আইসিসি) আবেদনের মধ্য দিয়ে বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক রূপ নিয়েছে।
পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ইংল্যান্ড সফর চলাকালীন টেস্ট ড্রেসিংরুমের স্পর্শকাতর তথ্য বাইরে চলে যাওয়ার বিষয়টি নজরে আসে। এই ঘটনার তদন্তে নামে পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ)। সংস্থাটি তথ্য ফাঁসের পাশাপাশি অনলাইন বেটিং ও জুয়ার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে অনুসন্ধান শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং টেস্ট ওপেনার ইমাম-উল-হককে লাহোরের কার্যালয়ে তলব করে প্রায় দুই ঘণ্টা নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় সফর চলাকালীন তাদের যোগাযোগ ও সাক্ষাতের বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে ইংল্যান্ডে থাকাকালীন পিসিবির মাধ্যমে রিজওয়ানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করে এনসিসিআইএ। পরবর্তীতে ফোনটি পাকিস্তানে এনে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ ছাড়াই ফোন জব্দ ও নোটিশ প্রদানের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে লাহোর হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন রিজওয়ান। তবে শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি আলিয়া নীলম তার আইনজীবীর আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেন এবং অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
আদালতে আবেদন খারিজ হওয়ার পর রিজওয়ান বিষয়টি আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের কাছে উপস্থাপন করেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, তার ফোন জব্দ ও ফরেনসিক করার প্রক্রিয়ায় আইসিসি কিংবা ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) সম্মতি ছিল কি না। রিজওয়ানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এটি কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নয়, বরং পুরো প্রক্রিয়াটি আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নীতি মেনে হয়েছে কি না এবং তার পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আইনি ও বেটিং বিতর্কের এই উত্তাল সময়ে পাকিস্তান ক্রিকেট দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টে পরাজয়ের পর রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হকসহ সাতজন প্রথম সারির ক্রিকেটারকে টেস্ট স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পিসিবি প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। চলমান এই তদন্ত ও তারকা ক্রিকেটারদের বাদ পড়ার ঘটনা পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন করে অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে।

















