পাকিস্তানের অস্থিতিশীল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কোহাট শহরে একটি মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলা ও পরবর্তী বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ১৫ জন পুলিশ সদস্য এবং ৬ জন সাধারণ নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া এই ঘটনায় আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।
প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদ আত্মঘাতী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোহাটের পুলিশ সদর দপ্তরের কাছে অবস্থিত ওই মসজিদের প্রবেশপথে বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলাকারী সজোরে ধাক্কা দেয়। বিস্ফোরণের পর বন্দুকধারীরা পুলিশ কম্পাউন্ডে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের তুমুল গুলিবিনিময় হয়।
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর একটি অংশ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তালেবান কমান্ডার হাফিজ গুল বাহাদুরের সঙ্গে সম্পর্কিত ‘ইত্তেহাদুল মুজাহিদীন’ নামের সংগঠনটি জানিয়েছে, তারাই এই হামলা চালিয়েছে।
চিকিৎসক তাহির শাহ জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএ-কে জানিয়েছেন, অন্তত ১৫টি মরদেহ এবং ৫০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে আল জাজিরাকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আহতের সংখ্যা অন্তত ৭৫ জন। জ্যেষ্ঠ উদ্ধারকর্মী বিলাল ফয়জি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, আহতদের অধিকাংশই নামাজরত মুসল্লি ছিলেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মসজিদটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং থানার বাইরের দেয়াল ধসে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ বেশ দূর থেকেও শোনা গেছে।
এদিকে, এই হামলার ঘটনার পর পাকিস্তান সরকার আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। দেশটির দাবি, আফগান তালেবান তাদের ভূখণ্ড থেকে টিটিপি ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দিচ্ছে। যদিও কাবুলের কর্মকর্তারা এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্টের ভিজিটিং অধ্যাপক মাইকেল সেম্পল মনে করেন, কোহাটের মতো হামলা পরিকল্পনা, রসদ ও প্রশিক্ষণ ছাড়া চালানো সম্ভব নয় এবং এসব গোষ্ঠী পাকিস্তান সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা করছে।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবারও হাঙ্গু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িবহরে বোমা হামলায় ছয় সেনাসদস্য নিহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর শুক্রবারের এই হামলার আগে নিরাপত্তা বাহিনী ১০ জন সন্দেহভাজন তালেবান যোদ্ধাকে হত্যার দাবি করেছিল। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই বোমা হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলাকারীদের এ ধরনের কাপুরুষোচিত কর্মকাণ্ড জাতির দৃঢ় সংকল্পকে দুর্বল করতে পারবে না।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের জন্য মুসল্লিরা জড়ো হওয়ার সময় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের আফগান সীমান্তবর্তী শহর কোহাটে পুলিশ সদর দপ্তর সংলগ্ন একটি মসজিদের প্রবেশপথে বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি সজোরে ধাক্কা দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফেরা আফগান তালেবানের সঙ্গে টিটিপির সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও তারা একে অপরের মিত্র।

















