দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে একটি ছোট যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় বিমানে থাকা ১৩ জনের সবাই নিহত হয়েছেন। ঐতিহাসিক নাজকা লাইনস পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের পরপরই বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। রোববার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পেরুর পুলিশ জানিয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটিতে ১১ জন যাত্রী এবং ২ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। তাদের কেউই এই দুর্ঘটনায় বেঁচে নেই। দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের মেজর জর্জ অন্দ্রেদে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত বিখ্যাত নাজকা লাইনস আকাশপথে দেখার জন্যই পর্যটকরা এই বিমানে ভ্রমণ করছিলেন। বিমানটি ইকা বিভাগের পিসকো শহর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পরপরই তাতে আগুন ধরে যায়, যার ফলে উদ্ধারকাজ চালানো সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকদের কাছে পেরু অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি গন্তব্য। দেশটির মাচু পিচুর ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ, কুস্কোর ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং নাজকা লাইনস আন্তর্জাতিক পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে ৪১ লাখের বেশি বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন।
পেরুর দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় মরুভূমিতে অবস্থিত নাজকা লাইনস বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। ধারণা করা হয়, খ্রিস্টপূর্ব ৫০০ থেকে খ্রিস্টাব্দ ৫০০ সালের মধ্যে এসব বিশাল ভূ-চিত্র নির্মিত হয়েছিল। ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। নাজকা লাইনসে প্রাণী, উদ্ভিদ, কাল্পনিক সত্তা এবং জ্যামিতিক নকশার বিশাল আকৃতির জিওগ্লিফ রয়েছে। এসব চিত্র ওপর থেকে স্পষ্টভাবে দেখার জন্য পর্যটকরা আকাশপথে ভ্রমণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

















