ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পরিবহন বিভাগে জলকামান চালক হিসেবে কর্মরত কনস্টেবল হুমায়ুন কবীরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জে নিজ বাড়ির সামনে থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন যাত্রাবাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আওলাদ হুসাইন। চলতি বছরের মার্চ মাসে এই অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয় এবং ১ জুলাই ঢাকা মহানগর হাকিম সারাহ ফারজানা হক তা আমলে নিয়েছেন।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুমায়ুন কবীরের স্ত্রী সালমা বেগমের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং এক আত্মীয়ের কাছ থেকে নেওয়া ১০ লাখ টাকা ফেরত না দেওয়ার বিরোধই ছিল এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ। সালমা ও তাঁর আত্মীয় মরিয়ম বেগম (মলি) হুমায়ুনকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য মাস দুয়েক ধরে পরিকল্পনা করেন। মলির স্বামী বাবুল মুন্সী প্রবাসে থাকাকালীন হুমায়ুনের কাছ থেকে ধার নেওয়া অর্থ পরিশোধ না করার চাপে ছিলেন। হুমায়ুন বেঁচে থাকলে সালমার সম্পর্কের পথে বাধা এবং আর্থিক চাপের ঝুঁকি—এই দুই কারণেই তাঁকে হত্যার ছক কষা হয়।
পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, খুনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভাড়াটে খুনি খোঁজা হয় এবং মলির মাধ্যমে পলি বেগম ও তার ভাগনে কায়েস হাওলাদারের সহায়তায় শুভ, আশিক, সজীব ও রাফিসহ অন্যদের যুক্ত করা হয়। কয়েকবার ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর ২৭ এপ্রিল রাতে হুমায়ুন বাসায় ফিরলে খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাঁকে অচেতন করা হয়। গভীর রাতে মলি, পলি, শুভ ও রাফি বাসায় ঢুকে হুমায়ুনের হাত-পা বেঁধে রশি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করেন। ঘটনার সময় সালমা তাঁর স্বামীর পা চেপে ধরে রেখেছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ বাইরে ফেলার পরিকল্পনা থাকলেও বাসার সামনে রিকশার গ্যারেজ খোলা থাকায় তারা মরদেহটি গেটের কাছে ফেলে রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়। তদন্ত কর্মকর্তা জানান, শুভ ও রাফিকে ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল এবং বাকি টাকা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর প্রাপ্ত পেনশনের অর্থ থেকে পরিশোধের চুক্তি ছিল।
এই মামলায় সালমা, পলি ও রাফি বর্তমানে কারাগারে আছেন। রাজীব হোসেন, মরিয়ম বেগম, কায়েস হাওলাদার ও ফজলে রাব্বি শুভ জামিনে রয়েছেন। এছাড়া আকাশ, আশিক, সজীব ও সাব্বির পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং আগামী ১৩ আগস্ট এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে। ২০১০ সালে বিবাহিত হুমায়ুন ও সালমা দম্পতির সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মামলার বাদী হুমায়ুনের ছোট ভাই খোকন হাওলাদার। আসামিপক্ষের আইনজীবী কামাল হোসেন জানিয়েছেন, আদালতে অভিযোগপত্র জমা হয়েছে এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

















