অবশেষে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে বঙ্গভবনের কয়েকজন কর্মকর্তা তার পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে সংসদ ভবনে পৌঁছে দেন। স্পিকারকে সম্বোধন করে লেখা এই চিঠির বিষয় ছিল ‘রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ’। কম্পোজ করা চিঠিতে স্পিকারকে ‘শ্রদ্ধাজনেষু’ সম্বোধন করে শুরুতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ লিখেছেন তিনি এবং নিজের স্বাক্ষরের স্থানে সবুজ কালি ব্যবহার করেছেন।
চিঠিতে সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল শপথ নেওয়ার পর থেকে তিনি সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য রেখে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার দৃঢ় ও ইতিবাচক ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি। তবে নিজের শারীরিক অবস্থার বর্ণনায় তিনি জানান, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছেন তিনি। এছাড়া হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হওয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি তার শরীরে ‘Autonomic Neuropathy’ শনাক্ত হয়েছে, যার ফলে তিনি মাঝে মাঝে ক্ষণিকের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।
চিঠিতে রাষ্ট্রপতি আরও উল্লেখ করেন, এসব রোগের কারণে সৃষ্ট শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের ফলে তার পক্ষে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা আর সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল শপথ নেওয়া মো. সাহাবুদ্দিন তার মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় এক বছর নয় মাস আগেই এই পদত্যাগপত্র জমা দিলেন।

















