নোয়াখালীর হাতিয়ায় একটি সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তোলায় উত্তর-পশ্চিম জাহাজমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশ্রাফুল আলমকে বেঁধে পেটানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সড়ক বিভাগের কার্যসহকারী বশির আহম্মেদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সকালে এ ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা জাহাজমারা-মোক্তারিয়া সড়কের আসাদনগরে বিক্ষোভ করেন এবং সড়ক অবরোধ করে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী শিক্ষকের ভাষ্যমতে, প্রধান শিক্ষক আশ্রাফুল আলম সড়কের উন্নয়নকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতিপত্র ও নকশা দেখতে চেয়েছিলেন। এ সময় কার্যসহকারী বশির আহম্মেদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে বশির আহম্মেদ ওই শিক্ষককে বেঁধে পেটানোর হুমকি দেন এবং শ্রমিকদের তাকে বেঁধে রাখার নির্দেশ দেন। স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান বলেন, একজন শিক্ষকের সঙ্গে এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য। এছাড়া সৈকত মোল্লা নামে অপর এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন যে, ওছখালী ও জাহাজমারা বাজার এলাকায় সড়ক নির্মাণ নিয়ে এর আগেও বশির আহম্মেদের সঙ্গে স্থানীয়দের বিরোধ হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে কার্যসহকারী বশির আহম্মেদ দাবি করেন, প্রচণ্ড তাপদাহে কাজ করার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে কথা-কাটাকাটি হয়েছে এবং এজন্য তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। তবে নোয়াখালী সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মহিবুল্লাহ সুমন জানিয়েছেন, সড়কের কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে এবং নকশা দেখতে চাইলে অফিসে যোগাযোগ করা যাবে। তিনি আরও বলেন, প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কর্মচারীর এমন আচরণ মোটেও ঠিক হয়নি এবং এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, জাহাজমারা থেকে মোক্তারিয়া ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ও নির্মাণ প্রকল্পের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরা। প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয় মাস আগে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

















