পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত প্রতিবেশী মহব্বত আলী খাঁকে স্থানীয়রা হাতেনাতে ধরে ফেললেও, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে একটি গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে তাকে ‘জুতার বাড়ি’ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় সোমবার ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই বাদী হয়ে সাঁথিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় বাড়িতে ওই বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী একা ছিল। সেই সুযোগে প্রতিবেশী মহব্বত আলী বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। কিশোরীর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে মহব্বত আলীকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। তবে ঘটনাটি থানায় না জানিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের উপস্থিতিতে একটি সালিস বৈঠক ডাকা হয়।
গৌড়ীগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সালিসে নাসির খানের আহ্বানে আরও উপস্থিত ছিলেন ১নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আ. মালেক এবং ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আরশেদ আলম ও খোরশেদ আলম। সালিসে শাস্তি হিসেবে মহব্বত আলীকে ‘২০টি জুতার বাড়ি’ দেওয়ার রায় কার্যকর করা হয়। ভুক্তভোগী কিশোরীর ভাবি জানান, প্রভাবশালীরা তাদের সালিসে কথা বলার সুযোগ দেননি এবং তারা এই বিচারের রায় মানেন না। গুরুতর অপরাধকে লঘু শাস্তির মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গৌড়ীগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল অহাব প্রামানিক সালিসে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, তাকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল এবং তিনি আগে থেকে কিছু জানতেন না। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে সোমবার দুপুরে ভুক্তভোগীর ভাই থানায় মামলা করেন। সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, তিনি সালিসের বিষয়টি শুনেছেন এবং অভিযোগ পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজই মামলা রুজু করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

















