জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক মো. সারজিস আলম মন্তব্য করেছেন যে, ন্যূনতম লজ্জা ও ব্যক্তিত্ব থাকলে শেখ হাসিনা মুখ দেখানো তো দূরের কথা, ভারতে গিয়ে আত্মহত্যা করতেন। তিনি দাবি করেন, যেভাবে শেখ হাসিনা পরাজিত হয়ে দেশ থেকে পালিয়েছেন, সেভাবে পাকিস্তানি বা ব্রিটিশরাও কখনো পরাজিত হননি বা পালিয়ে যাননি। সারজিস আলম বলেন, এ বিষয়ে কথা বলে সময় নষ্ট না করে বরং আগামীর সম্ভাবনার দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। শনিবার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুরে গণভোট বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান ও সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে আয়োজিত জুলাই পদযাত্রা শেষে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, ওই পরিবারের কেউ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশি হতে পারেনি। বর্তমানে শেখ হাসিনাও ভারতের নাগরিক। তিনি বলেন, তারা কতটা পাপী, খুনি ও জুলুমকারী ছিলেন যে, তাদের কাউকেই আল্লাহ এই মাটি বা নিজের ধর্মের জন্য কবুল করেননি।
বিএনপি সরকারের সমালোচনায় সারজিস আলম অভিযোগ করেন, গত সাড়ে চার মাসে সরকারি সুযোগ-সুবিধা মূলত বিএনপির ভোটারদের দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, বাংলাদেশে কি আর গরিব বা অধিকারবঞ্চিত মানুষ নেই? বিএনপি কি শুধু দলের সরকার, নাকি পুরো বাংলাদেশের সরকার—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সারজিস আলম উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আগে আওয়ামী লীগ মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করত এবং তাদের পেটুয়া বাহিনী সংবাদের স্ক্রিপ্ট লিখে দিত। অভ্যুত্থানের পর কিছুদিন মিডিয়া স্বাধীন থাকলেও বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতা সত্য সংবাদ প্রচারে বাধা দিচ্ছেন, যা স্বাধীন সংবাদমাধ্যম বিকাশের জন্য অন্তরায়।
এনসিপির প্রতি সমর্থন চেয়ে তিনি বলেন, মাত্র এক বছর বয়সী এই দলের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জনগণের ভোটের আমানত জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে রক্ষা করা হবে। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য আতিক মুজাহিদ, জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং গোমস্তাপুর উপজেলা এনসিপির নেতা আবু মাসুদ।
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ০৫: ১৯আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ০৫: ২০
এনসিপিকে সমর্থন জানানোর আহ্বান জানিয়ে সারজিস আলম বলেন, বিএনপির বয়স প্রায় ৫০ বছর। জামায়াতের বয়স প্রায় ৮৫ বছর। আমাদের রাজনৈতিক দলের বয়স মাত্র এক বছর পেরিয়েছে। আমরা মাত্র শুরু করেছি। আপনারা আমাদের ওপর আস্থা রেখে দেখুন। জীবনের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত আপনাদের ওই আস্থার আমানত, ভোটের আমানত রক্ষা করব।

















