বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই সেরনিয়াবাত খোকন আব্দুল্লাহর দেশত্যাগ নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও কেবল শেখ পরিবারের কোটায় লোকদেখানো নির্বাচন করে মেয়র বানানো হয় খোকনকে। মাত্র ৭ মাসের দায়িত্ব পালনকালে নানাভাবে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত করছে দুদক। অভিযোগ রয়েছে, বৈষম্যবিরোধী গণ-আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রাক্কালে তিনি প্রায় ১৬ কোটি টাকা গাড়িভর্তি করে নিয়ে দেশ ছাড়েন।
৪ আগস্ট রাত ১২টায় বরিশাল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন খোকন আব্দুল্লাহ। ৩ ঘণ্টা চলে প্রস্তুতি। ওই রাতে তার বাসায় থাকা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন, ‘এই ৩ ঘণ্টায় ঘরে থাকা নগদ টাকা আর স্বর্ণালংকার ব্যাগে ভরেন তিনি। তাকে সহায়তা করা তৎকালীন এপিএস রুবেলের কাছে পরে শুনেছি যে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ছিল সেখানে। তবে কোনো কাপড়চোপড় সঙ্গে নেননি তিনি।’ রাত ৩টার দিকে একটি বিশেষ বাহিনীর দুটি গাড়ি তাকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যায়।
খুলনায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তিনি বিসিসির ঠিকাদারদের পাওনা ২৭ কোটি টাকার চেকে ব্যাক ডেটে সই করেন। যুক্তরাষ্ট্রে টাকা নিতে হলে যেহেতু অর্থের উৎস জানাতে হয়, তাই সিঙ্গাপুরে খোলা নামসর্বস্ব কোম্পানির মাধ্যমে সেখানে টাকা পাঠাতেন খোকন। মেয়র হওয়ার পর থেকে ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত যত টাকা হাতিয়েছেন, তার সিংহভাগ এভাবেই পাচার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। খুলনায় অবস্থানকালে কয়েকবার দেশ ত্যাগের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে সিলেটের তামাবিল সীমান্ত দিয়ে তিনি ভারতে প্রবেশ করেন। কলকাতার নিউ টাউন অ্যাকশন অ্যারিয়া-১-এর কাছে ভাড়া নেওয়া বাসায় ওঠেন স্ত্রীকে নিয়ে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে টেক্সাসে অবস্থান করছেন খোকন আব্দুল্লাহ। সেখানে তিনি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও পেট্রোল পাম্প ব্যবসায় বিনিয়োগ করে স্থায়ী হওয়ার চেষ্টা করছেন। ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর এই দম্পতিকে হাত ধরাধরি করে হাঁটতে দেখা গেছে কলকাতার এক্সেস মলে। ট্রাম্প সরকারের গোল্ডেন ভিসা সুবিধার আওতায় তিনি ও তার স্ত্রী ভিসা পেয়েছেন বলে জানা গেছে। তার ছেলে প্রত্যুষ সেরনিয়াবাত আগে থেকেই মার্কিন নাগরিক এবং তার নামে থাকা বাড়িতেই তারা বর্তমানে বসবাস করছেন। এদিকে, খোকন আব্দুল্লাহর ব্যবহৃত সবকটি ফোন নম্বর বর্তমানে বন্ধ পাওয়া গেছে এবং তার ঘনিষ্ঠদের দাবি, দলের কারও সঙ্গে তার এখন আর কোনো যোগাযোগ নেই।
















