চিকিৎসার উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ডে অবস্থানরত জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই আজ শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে দেশে ফিরছেন। স্পিকারের এই আগাম ফেরার বিষয়টি রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিয়ে থাকেন এবং নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত স্পিকারই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন রয়েছে যে, স্পিকারের দেশে ফেরার দিনেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার তথ্যমতে, তিনি পদত্যাগের বিষয়ে মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন এবং স্পিকার দেশে ফেরার পরপরই পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করা মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
এদিকে রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার দিনভর রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে, যা বিএনপি নেতাদের মধ্যেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। যদিও ওই বৈঠকের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে ধারাবাহিক এসব ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা নাম আলোচিত হচ্ছে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আবদুল মঈন খানের নাম শোনা যাচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বরত একজন জ্যেষ্ঠ সচিব, একজন সাবেক সচিব এবং সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রিফাত আহমেদের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচনার টেবিলে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বা নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও রাজনৈতিক মহলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।

















