বাংলাদেশ

তাহসিফ হত্যা মামলা: সন্দেহভাজন দীপ রিমান্ডে, খুঁজছে রহস্যময়ী তরুণীকে

প্রতিবেদক
সব খবর

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৫: ০৯ আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৫: ১৩। বিমান বাহিনীর বরখাস্ত হওয়া ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য পাচ্ছে পুলিশ। ঘটনার রাতে তাহসিফের উত্তরার বাসা থেকে বের হয়ে যেসব স্থানে তিনি গিয়েছেন, তার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি ওই রাতে টহলে থাকা পুলিশের দলের সঙ্গেও কথা বলেছেন তারা। তদন্তে দেখা গেছে, টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিতে যাওয়ার আগে উত্তরার সোনারগাঁও জনপথ রোডের ‘নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’-এ তাহসিফ ও তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার জামান দীপ প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ২৪-২৫ বছর বয়সি এক তরুণীও ছিল। পুলিশ ওই তরুণীর পরিচয় শনাক্ত করতে পারলেও তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করেনি, তবে তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

গত শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার দেখানো দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিমের করা মামলায় চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে তাহসিফ ও দীপ মোটরসাইকেলে করে নেস্ট বারে আসেন এবং সেখান থেকে তিন বোতল মদ কিনে পান করেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই তরুণী গেঞ্জি, প্যান্ট ও কেডস পরিহিত ছিলেন এবং তার হাতে একটি সাদা রঙের পলিথিন ছিল। বারে তাহসিফের সঙ্গে থাকা তরুণীকে আটক করা গেলে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়া যাবে বলে মনে করছে পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তি এলাকায় টহল পুলিশের এক সদস্যের সঙ্গে দীপের দেখা হয়। ওই সময় দীপের গায়ে আবর্জনা ও কাদা লেগে ছিল। পুলিশ সদস্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে নিজেকে সেনাবাহিনীর ‘ক্যাপ্টেন’ হিসেবে পরিচয় দেয়। পরে পুলিশ তাকে চলে যেতে বলে। দীপের বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ তাদের মাদকসেবী ভেবে ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন এবং দীপ ২৯ নম্বর সীমানা পিলারের পাশে লুকিয়ে থেকে পরে সেখান থেকে পালিয়ে যান। তবে দীপের এই দাবির সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ ও টহল পুলিশের বয়ানের গরমিল পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে সেখানে ইয়াবা বা হেরোইন সেবনের তথ্যও উঠে এসেছে।

নৌ পুলিশের পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মাসুমা আক্তার জানিয়েছেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পিবিআইয়ের কর্মকর্তাদের সন্দেহ, দীপ একাই বা অন্য কারো সহযোগিতায় তাহসিফকে হত্যা করে থাকতে পারেন। এদিকে, শনিবার রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)-এর একটি প্রতিনিধিদল তাহসিফের বাসায় গিয়ে তার পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং সুষ্ঠু তদন্তে সহায়তার আশ্বাস দেন। গত মঙ্গলবার বাসা থেকে বের হওয়ার পরদিন বুধবার টঙ্গীর তুরাগ নদের রাজাবাড়ি ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে নৌপুলিশ মামলাটির তদন্ত করছে। তদন্তে তাহসিফের উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

সব খবর