আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তার প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী বলেছেন, বিশ্বমঞ্চে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর এই ভাষণ দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।
তারেক রহমানের রাষ্ট্রভাবনা সম্পর্কে প্রেস সচিব বলেন, ২০২৫ সালে দেশে ফেরার পর তিনি যখন জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’ বলেছিলেন, সেটি কোনো আকস্মিক স্লোগান ছিল না; বরং তা ছিল দীর্ঘদিনের সুবিবেচিত রাষ্ট্রভাবনা। তিনি জানান, ২০১৪ সালের ১৫ জুলাই পূর্ব লন্ডনে বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান সরকারি চাকরির কোটা পদ্ধতি সংস্কারের কথা বলেছিলেন। সেসময়ই তিনি কোটা ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। সালেহ শিবলী আরও বলেন, ২০১৪ সালে ঘোষিত সেই পরিকল্পনা ২০১৮ সালের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালে সফলতার মুখ দেখেছে। একজন দূরদর্শী নেতার পরিচয় হলো দশ বছর আগেই জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুধাবন করা।
রাজনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়ে প্রেস সচিব বলেন, অন্যের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে নিজের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার মধ্যে কোনো গৌরব নেই। রাজনীতি কেবল মিছিল-মিটিং বা প্রতিপক্ষকে হেয় করার বিষয় নয়, বরং পারিবারিক ও ব্যক্তিক মর্যাদা রক্ষার মাধ্যমেই সুন্দর সমাজ গঠন সম্ভব। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে তারেক রহমানের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার করতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু সমস্ত বাধা অতিক্রম করে তিনি যে রাষ্ট্রচিন্তার কথা বলেছিলেন, আজ তা বাস্তবায়িত হচ্ছে।
গণমাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতার পক্ষে, তবে স্বাধীনতার অর্থ স্বেচ্ছাচারিতা নয়। স্বাধীনতার সীমা নির্ধারণের এখতিয়ার আদালতের। তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত ও আর্থিক নিরাপত্তার পাশাপাশি গণমাধ্যমের নীতিমালার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া মালিকপক্ষের বেতন-ভাতা দেওয়ার সক্ষমতা যাচাই এবং তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অপপ্রচার রোধে প্রতিটি গণমাধ্যমকে নিজস্ব উদ্যোগে তথ্য যাচাইয়ের ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল থেকে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দেন তিনি।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রেস সচিব বলেন, বিগত সময়ের প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা করে বর্তমান সরকার দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিভিন্ন ঝুঁকি কাটিয়ে বাংলাদেশকে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করার কাজ চলছে।

















