বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কুয়েত সরকারের জন্য উপহার হিসেবে পাঠানো ২০ টন মাছ ফ্লাইট জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত পাঠানো সম্ভব হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জরুরি ভিত্তিতে কেনা উচ্চমানসম্পন্ন এই মাছের মধ্যে রয়েছে ১০ টন গলদা চিংড়ি এবং ৫ টন করে বাগদা চিংড়ি ও রুপচাঁদা। দীর্ঘ চার মাস অপেক্ষার পর ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এখন এই মাছ নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে মাছগুলো খুলনার বাটিয়াঘাটার ভান্ডারকোটের ট্রাস্ট সি-ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রসেসিং প্ল্যান্টে সংরক্ষিত আছে।
টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে উপহার হিসেবে কুয়েত সরকারকে চাল ও মাছ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কুয়েত সরকার উপহারের চাল গ্রহণ করলেও মাছ নিতে অনাগ্রহ দেখায়। দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, মাছ পচনশীল পণ্য হওয়ায় বাণিজ্যিক ফ্লাইটে তা নিতে কুয়েত সরকার আগ্রহী ছিল না। টিসিবির মুখপাত্র ও উপপরিচালক শাহাদত হোসেন জানিয়েছেন, নিলামে আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান যাতে ঢাকায় মাছগুলো দেখতে পারেন, সেজন্য খুলনা থেকে কিছু নমুনা ঢাকায় আনা হয়েছে। আজ রোববার ও আগামীকাল সোমবার আগ্রহীরা সরেজমিনে মাছগুলো দেখার সুযোগ পাবেন এবং আগামী মঙ্গলবার নিলাম অনুষ্ঠিত হবে।
নিলামে অংশগ্রহণের জন্য টিসিবি কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত বেঁধে দিয়েছে। আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নিজ প্যাডে মাছের ধরন, পরিমাণ, প্রতি কেজির দর, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল এবং পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা উল্লেখ করে দরপত্র জমা দিতে হবে। ঢাকার প্রধান কার্যালয়সহ চট্টগ্রাম ও খুলনা অফিসে এই কাগজপত্র জমা দেওয়া যাবে। প্রতিটি মাছের ধরনের জন্য আলাদা আলাদা দরপ্রস্তাব ও জামানত প্রদান করতে হবে। জামানত হিসেবে সর্বনিম্ন ১৫ হাজার টাকা (ফেরতযোগ্য) জমা দিয়ে নিলামে অংশগ্রহণ করা যাবে।
নিলামের অন্যান্য শর্তাবলির মধ্যে রয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র বা ট্রেড লাইসেন্সের কপি জমা দেওয়া, সর্বোচ্চ দরদাতাকে বিজয়ী ঘোষণা করা এবং দরের ওপর ভ্যাট পরিশোধ করা। নিলামে বিজয়ী হওয়ার পর তিন কর্মদিবসের মধ্যে অর্থ পরিশোধ করতে হবে এবং অর্থ পরিশোধের তিন দিনের মধ্যে নিজ খরচে মাছ কোল্ডস্টোরেজ থেকে সরিয়ে নিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে মাছ সরবরাহ নিতে ব্যর্থ হলে প্রতিদিনের জন্য স্টোরেজ চার্জ প্রযোজ্য হবে এবং নিয়ম না মানলে নিলাম বাতিল বলে গণ্য হবে। এছাড়া নিলামে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিটি পক্ষকে অন্তত ৫০০ কেজি মাছ কেনার শর্ত পূরণ করতে হবে।
দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, মাছ পচনশীল পণ্য হওয়ায় বাণিজ্যিক ফ্লাইটে নিতে অনাগ্রহ তাদের।প্রায় চার মাস অপেক্ষার পর ১৮ আগস্ট মাছ নিলামে তুলে দরপত্র আহ্বান করে টিসিবি।
গলদা চিংড়ি, বাগদা চিংড়ি ও রুপচাঁদার জন্য আলাদা আলাদা দরপ্রস্তাব ও জামানত জমা দিতে হবে।২.

















