লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় মসজিদের মাইক চুরির অভিযোগ তুলে সৌরভ রায় (১৫) নামের এক কিশোরকে হাত বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। বাঁশের খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে হাত বেঁধে তাকে মারধরের ৩১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী কিশোর সৌরভ হাতীবান্ধা উপজেলার নওদাবাস এলাকার ক্ষিতিষ রায়ের ছেলে এবং সে বর্তমানে কালীগঞ্জের কালভৈরব এলাকায় তার নানাবাড়িতে অবস্থান করছিল।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সৌরভের মা প্রায় ১০-১২ দিন আগে দুই ছেলেকে নিয়ে কালীগঞ্জে তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সৌরভ কালীগঞ্জের চন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর বত্রিশ হাজারী গ্রামের চাপারহাট বাজারে একটি মসজিদের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন তাকে গতিরোধ করে মসজিদের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আটকে রেখে মসজিদের মাইক চুরির অভিযোগ আনা হয়। সৌরভ চুরির অভিযোগ অস্বীকার করলে তাকে রশি দিয়ে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরটির দুই হাত রশি দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা এবং কয়েকজন ব্যক্তি তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করছেন। একপর্যায়ে তাকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারা হয় এবং মারধরের মুখে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ভিডিওটি কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিকের নজরে এলে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। বৃহস্পতিবার রাতেই পুলিশ কিশোরের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে।
এ ঘটনায় সৌরভের মা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে দেওয়া লিখিত অভিযোগটি শুক্রবার নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু সিদ্দিক জানান, পুলিশ এই ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ, মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৌরভের মা ১০–১২ দিন আগে দুই ছেলেকে নিয়ে কালীগঞ্জে তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সৌরভ কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর বত্রিশ হাজারী গ্রামের চাপারহাট বাজারে একটি মসজিদের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন তাকে পথরোধ করে মসজিদের ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে
এ ঘটনায় সৌরভের মা বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০–২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে দেওয়া লিখিত অভিযোগটি আজ শুক্রবার নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।

















