ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত ঘটনা হলো অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের ‘টাইমড আউট’। আজ সেই ঘটনার তিন বছর পূর্ণ হলো। ঘটনাটি ঘটেছিল দিল্লিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে। সে সময় শ্রীলঙ্কার দলীয় সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ১৩৫ রান। ব্যাটিংয়ে নামার সময় ম্যাথুসের হেলমেটের স্ট্র্যাপে সমস্যা দেখা দেয়, যার ফলে তিনি ড্রেসিং রুমে নতুন হেলমেটের ইশারা করেন। অতিরিক্ত খেলোয়াড়ের মাধ্যমে হেলমেট পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় বাংলাদেশ দলের আপিলের প্রেক্ষিতে আম্পায়াররা ম্যাথুসকে টাইমড আউট ঘোষণা করেন।
ক্রিকেটের আইনপ্রণেতা এমসিসির ওয়েবসাইটে ‘টাইমড আউট’ অংশে ৪০.১.১ ধারায় বলা হয়েছে, ‘উইকেট পতনের পর কিংবা ব্যাটসম্যান রিটায়ার্ড হওয়ার পর নতুন ব্যাটসম্যান ৩ মিনিটের মধ্যে পরবর্তী বলের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত হবেন।’ তবে সেই বিশ্বকাপে আইসিসির প্লেয়িং কন্ডিশনে সময়সীমা ছিল ২ মিনিট। হেলমেট বদলাতে গিয়ে ম্যাথুস নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তুত হতে পারেননি। মাঠেই ম্যাথুস আম্পায়ার ও বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সাথে দীর্ঘ সময় কথা বলেন, কিন্তু আম্পায়াররা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেননি।
তৎকালীন সহকারী অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনিই প্রথম ফিল্ডিং করার সময় ম্যাথুসের দেরি করার বিষয়টি খেয়াল করেন এবং সাকিবকে আপিল করার পরামর্শ দেন। নাজমুলের ভাষ্যমতে, এটি ছিল ম্যাচ জেতার জন্য একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত, যা দলের সবাই সমর্থন করেছিলেন। সাকিব নিজে সেই ক্রিকেটারের নামটা কখনোই বলেননি। তবে বুদ্ধিটা যিনি দিয়েছিলেন, সেই ক্রিকেটার নিজেই মুখ খুলেছেন ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে।
ম্যাথুসকে আউট করার পর বাংলাদেশ দল বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিল। অনেকে এটিকে খেলার চেতনার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন। তবে নাজমুল হোসেন শান্তর মতে, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলার সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য ম্যাচটি জেতা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাথুস নিজেও পরবর্তী সময়ে জানিয়েছেন, সেই মুহূর্তে তার রাগ ও হতাশা থাকলেও তিনি কোনো ক্ষোভ পুষে রাখেননি এবং বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো।
উল্লেখ্য যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটিই প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র টাইমড আউটের ঘটনা। ছেলে ও মেয়েদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এমন আউট দেখা গেছে দুবার এবং প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সাতবার। তবে টেস্ট ক্রিকেটে এখনো এমন কোনো ঘটনার নজির নেই।

















