যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পরিস্থিতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, গত মাসে দুই দেশের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল, তা এখন আর বিদ্যমান নেই। গত শুক্রবার (১০ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানান, ইরান তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী এবং যুক্তরাষ্ট্র তাতে সম্মত হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি তাদের জানিয়ে দিয়েছেন যে আগের যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।
ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে তেহরান ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার কোনো অনুরোধ তারা করেনি। বরং তারা কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের নেওয়া উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। এর আগে, ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ জানিয়েছে যে, দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনার জন্য ওমান সফরে যাচ্ছেন।
এদিকে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তার বিরুদ্ধে কোনো হত্যাচেষ্টা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক জবাব দেবে। তিনি বলেন, ইরান যদি বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যার চেষ্টা করে, তবে হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনে ইরানের সব অঞ্চল ধ্বংস করে দেওয়া হবে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল সম্প্রতি ওয়াশিংটনকে এমন গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে যেখানে ট্রাম্পকে হত্যার একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনার কথা উল্লেখ রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাল্টা সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার শর্ত ভঙ্গ করলে তেহরানও তার সমানুপাতিক জবাব দেবে। উল্লেখ্য, মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, সমুদ্রপথে বিশ্বে পরিবাহিত মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে ওই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে এবং তেলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

















