দেশের প্রান্তিক কৃষক, খেটে খাওয়া মানুষ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে সব নাগরিক সুবিধা একটি একক কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার মহাপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের নাগরিকদের দায় মেটানো সরকারের দায়িত্ব। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড কিংবা প্রবাসী কার্ডের মতো সুবিধাগুলোকে ভবিষ্যতে সমন্বিত করে এই সর্বজনীন কার্ডের মাধ্যমে নাগরিকদের সমস্ত সরকারি সেবা প্রদান করা হবে।
কৃষিখাতকে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া থাকা প্রায় ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষকের কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এটি কোনো কাগুজে পরিকল্পনা নয়, বরং মাঠপর্যায়ে এর সুফল কৃষকরা পেতে শুরু করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।
দেশের ঋণ নির্ভর অর্থনীতিকে বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতির দিকে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। বিগত স্বৈরাচারী আমলে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচারের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যেতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ, ব্লু ইকোনমি ও ইকোটুরিজম খাতে আরও ১০ লাখসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে মোট ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও আধুনিক ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপন ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবসমাজকে আন্তর্জাতিক বাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে।
পরিবেশ রক্ষায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মেগা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে, যার মাধ্যমে আড়াই লক্ষ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, ৩১ দফা রূপরেখা এখন ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনের পূর্বে স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলা এবং ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগসহ বিভিন্ন যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

















