হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জেরে ইরানের ৮০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে শক্তিশালী বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন এই আগ্রাসনের কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। দুই পরাশক্তির মধ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া এই চরম উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একলাফে অনেকটা বেড়ে গেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ২.৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৭২ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড ও কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার সাইট এবং জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় এই হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে থাকা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ৬০টির বেশি ছোট নৌযানেও আঘাত হানা হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বেসামরিক নাবিকদের পরিচালিত জাহাজে হামলার মূল্য চোকাতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলো হলো মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী কাতারি জাহাজ ‘এমটি আল আল-রেকাইয়াত’, সৌদি আরবের ‘এমটি ওয়াদিয়ান’ এবং লাইবেরিয়ার ‘এমটি সাইপ্রাস প্রসপারিটি’।
ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম-আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এই হামলাকে ‘নগ্ন আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে এর কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিভাবাদি একে গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি দাবি করেছে, সামরিক স্থাপনার কথা বলা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ হামলা হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের বেসামরিক এলাকা লক্ষ্য করে। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞায় দেওয়া সাময়িক ছাড় প্রত্যাহার করে নেয়, যা তেহরানের কাছে অবিশ্বস্ততার প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনায় কাতার ও সৌদি আরবও ইরানকে দায়ী করেছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানিয়েছেন, কাতারি জাহাজ ‘আল-রেকাইয়াত’ হামলার শিকার হয়েছে। এই সংকটের প্রেক্ষিতে ইরাক সফর সংক্ষিপ্ত করে তেহরানে ফিরে গেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল এবং বর্তমানে তারা ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ নামে নতুন সংস্থার মাধ্যমে প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করছে।

















