দীর্ঘদিন বিরতির পর আবারও দ্বিপাক্ষিক আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বহুল প্রতীক্ষিত এই বৈঠকটি চলতি সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আলোচনার স্থান হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তানকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যেখানে উভয় দেশের কূটনীতিকরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও ভূ-রাজনীতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন। সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ১১ জুলাই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এবারের আলোচনায় ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, দেশটির জব্দকৃত সম্পদ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে থাকবে। এছাড়া ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দেশটির প্রতিনিধিদল সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৮ জুন লেবাননসহ আঞ্চলিক ফ্রন্টগুলোতে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় গত ২১ জুন পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় উভয় দেশের প্রতিনিধিদলের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং ২২ জুন সুইজারল্যান্ডে কারিগরি পর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হয়।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি গত বুধবার জানিয়েছেন, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা মার্কিন ও ইরানি আলোচকদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। তিনি জানান, সমঝোতা স্মারক-সংক্রান্ত বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং উভয় পক্ষ আগামী দিনগুলোতেও আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। পরবর্তী বৈঠকের তারিখ যত দ্রুত সম্ভব নির্ধারণ করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

















