বুধবার ভোরে ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস বা পিএমএফের একাধিক ঘাঁটিতে একযোগে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। ওয়াশিংটন ও রিয়াদের দাবি, সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলার জবাবে এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। বাগদাদ, নিনেভে, বসরা, কিরকুক, কারবালা, দিয়ালা ও ওয়াসিতসহ কয়েকটি প্রদেশে চালানো এই হামলায় পিএমএফের অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত এবং ৩২ জনের বেশি আহত হয়েছেন। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।
এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরাকের প্রেসিডেন্ট নিজার আমেদি একে অগ্রহণযোগ্য ও ইরাকের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরাকের ভূখণ্ড কোনো আঞ্চলিক শক্তির দ্বন্দ্ব মেটানোর ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিপরিষদের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। এছাড়া তেহরানও এই হামলার নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অস্থিতিশীলতা তৈরির জন্য দায়ী করেছে।
ইরাকে যৌথ হামলার প্রায় একই সময়ে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এসব হামলা প্রতিহত করেছে এবং জর্ডান সেনাবাহিনী পাঁচটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে তিনটি ট্যাংকারে হামলার দাবিও করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, জর্ডানে মোতায়েন চার হাজার মার্কিন সেনার ঘাঁটি এখন ইরানের প্রধান নিশানায় পরিণত হয়েছে, যে কারণে মার্কিন বাহিনী সেনাদের ব্যক্তিগত মুঠোফোন ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপের কথা ভাবছে।
এই ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই হামলার জন্য ইরানকে চড়া মূল্য দিতে হবে। তিনি শিয়া মিলিশিয়াদের ‘বিশ্বের জন্য ক্যানসার’ হিসেবে অভিহিত করে আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে আগ্রাসন শুরুর পর এই প্রথম সৌদি আরব প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানে অংশ নিল।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। যদিও ইরান ওমানের হরমুজ প্রণালি যৌথভাবে পরিচালনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। জাতিসংঘে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমদ উত্তেজনা প্রশমনে গত মাসের সমঝোতা স্মারকের প্রতিশ্রুতি মেনে চলার আহ্বান জানালেও, নতুন করে এই সংঘাতের ফলে সেই শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এতে পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) নামের গোষ্ঠীটির অন্তত ২০ জন যোদ্ধা নিহত ও ৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
এ হামলার জন্য ইরানকে ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।টানা ১৩ দিন পর গত শুক্রবার ইরানে বোমা হামলা স্থগিত করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

















