বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়, ট্রাম্পের ক্ষমতা খর্ব

প্রতিবেদক
হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প পোশাকশ্রমিক সোহেদার জীবন সংগ্রাম ও স্বপ্ন পোশাকশ্রমিক সোহেদার জীবন সংগ্রাম ও স্বপ্ন স্বাস্থ্যসেবায় দালালের দৌরাত্ম্য: প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে সাধারণ রোগীর চিকিৎসা স্বাস্থ্যসেবায় দালালের দৌরাত্ম্য: প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে সাধারণ রোগীর চিকিৎসা পার্বত্য তিন জেলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর বছরে ৬১০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি পার্বত্য তিন জেলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর বছরে ৬১০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি মোংলা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত তৈরি হবে নতুন শিল্পাঞ্চল রুট মোংলা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত তৈরি হবে নতুন শিল্পাঞ্চল রুট পালিত হচ্ছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হচ্ছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ইরানের কেশম দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর ইরানের কেশম দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়: ট্রাম্পের নীতিতে কী পরিবর্তন আসছে? মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়: ট্রাম্পের নীতিতে কী পরিবর্তন আসছে? ৭ নভেম্বরের চেতনা: রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের পথে বাংলাদেশ ৭ নভেম্বরের চেতনা: রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের পথে বাংলাদেশ ট্রাম্পের নতুন চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার: অভিবাসন নীতির প্রধান কারিগর ট্রাম্পের নতুন চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার: অভিবাসন নীতির প্রধান কারিগর
সব খবর

যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটাররা কোনো রক্তপাত ছাড়াই এক ধরনের ‘রেজিম চেঞ্জ’ ঘটিয়ে দিয়েছেন। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পদচ্যুত করা হয়নি, তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় তাঁর একচ্ছত্র ক্ষমতায় লাগাম টানা হয়েছে। ভোটাররা মূলত ট্রাম্প ও তাঁর নীতিগুলোর বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন, যা অনেকের মতে একটি ‘ডেমোক্র্যাটিক সুনামি’ সৃষ্টি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর দলের শাসনের ওপর একটি গণভোট হিসেবে দেখা হয়। গত এক শ বছরে মাত্র তিনবার ছাড়া প্রতিবারই ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে ভোটারদের হাতে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে। বেসরকারি হিসাবে, তাঁরা রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সিনেটে অন্তত সাতটি আসন ছিনিয়ে নিয়েছেন। টেক্সাস, জর্জিয়া ও ওহাইওর মতো ঐতিহ্যগতভাবে রক্ষণশীল রাজ্যগুলোতেও রিপাবলিকানদের হাত থেকে গভর্নরের পদ ডেমোক্র্যাটদের দখলে গেছে, যা ডেমোক্র্যাটিক প্রচারণার ব্যাপকতা নির্দেশ করে।

ক্ষমতা ধরে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল। নির্বাচনী মানচিত্র নতুন করে তৈরি করা, বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্যোগ এবং নির্বাচনী বুথগুলোতে কারচুপি প্রতিরোধের জন্য সমর্থকদের মোতায়েন করার মতো প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ভোটারদের মন জয় করা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ এই প্রশাসনের দুর্নীতি, অনাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহার মেনে নিতে রাজি হয়নি।

ঐতিহাসিক এই পরাজয়ের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। ১৯৯২ সালের নির্বাচনী কৌশলের মূলমন্ত্র ‘ইটস দ্য ইকোনমি, স্টুপিড’ এবারও প্রাসঙ্গিক ছিল। ডেমোক্র্যাটরা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে তাদের প্রচারণার প্রধান বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছিল। ভোটাররা বাজারের বিল এবং পেট্রলপাম্পের দামের ভিত্তিতে অর্থনীতির মূল্যায়ন করেছেন। বার্তা সংস্থা এপির ভোটার জরিপে অধিকাংশ ভোটার জানিয়েছেন যে ট্রাম্পের নীতি তাদের খরচ আরও বাড়িয়েছে।

ইরান যুদ্ধের জেরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং এর প্রভাবে প্রায় সব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ভোটারদের অসন্তুষ্ট করেছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নিজেও স্বীকার করেছেন যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ব্যয় তাদের হারের কারণ। ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ এবং ঢালাও আমদানি শুল্ক আরোপের নীতিও মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। যদিও ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে এই শুল্ক থেকে বিপুল আয়ের কথা বলেছিলেন, কিন্তু সেই ব্যয় শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের পকেট থেকেই গেছে।

ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ (মাগা) আন্দোলনের মূল ভিত্তি ছিল অভিবাসনবিরোধী মনোভাব এবং বহিরাগতদের প্রতি ঘৃণা। বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রের খ্রিষ্টান ও শ্বেতসভ্যতার প্রতি হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। এই অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির কারণে দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অভিবাসন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও, দেশজুড়ে পরিচালিত সামরিক কায়দায় অভিযান অভিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছিল। এই নীতির ফলে মেক্সিকান-আমেরিকান ভোটাররা, যারা পূর্বে ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, তারা এবার ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকেছেন। টেক্সাসে হিস্পানিক ভোটের এই পরিবর্তন ৪০ বছরের মধ্যে প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হওয়া এবং একজন হিস্পানিক নারীর গভর্নর হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

মিশিগানের সদ্য নির্বাচিত সিনেটর আবদুল আল-সাইদের মতো প্রার্থীদের প্রতি ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক প্রচারণাও ভোটারদের ওপর ভিন্ন প্রভাব ফেলেছে। আল-সাইদ, যাকে ট্রাম্প ‘জিহাদি’ ও ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন, তিনি ইসরায়েলের সমালোচনার কারণে রিপাবলিকানদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিলেন। তবে আল-সাইদ তার প্রচারণায় রাজনীতি থেকে অর্থ বন্ধ করে মানুষের পকেটে তা তুলে দেওয়া এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের শাসনতন্ত্র অনুযায়ী ক্ষমতা প্রশাসন, সংসদ ও বিচার বিভাগের মধ্যে ভাগ করা থাকে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সমবণ্টনের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন এবং নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করতেন। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায়, নতুন আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং অর্থ বরাদ্দের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনকে এখন কংগ্রেসের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। যুদ্ধ, বাণিজ্যনীতি, অভিবাসন এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের মতো প্রতিটি ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনার ক্ষমতা আগামী কংগ্রেসের থাকবে।

ডেমোক্র্যাটরা তদন্তের চেয়ে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করার কথা বলেছেন। ইলন মাস্কের মতো ব্যক্তিরা, যারা ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন এবং এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পরাজয়ের জন্য প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছিলেন, তাদের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ডেটা সেন্টার নির্মাণে স্থানীয় সম্মতি ছাড়া এআই-এর সমর্থনে বাধা দেওয়ার মতো বিষয়গুলোও ডেমোক্র্যাটদের এজেন্ডায় ছিল, যা টেক্সাসের মতো রাজ্যে তাদের প্রভাব বাড়াতে সাহায্য করেছে।

২০১০ সালে বারাক ওবামার প্রথম দফার শাসনামলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাঁর দল ৬৩টি আসন হারিয়েছিল।এবারের চূড়ান্ত আসনসংখ্যা এখনো স্পষ্ট নয়।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছিলেন, বহিরাগতদের উপস্থিতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র ‘সভ্যতাগত নিশ্চিহ্নকরণ’, তাঁর কথায় ‘সিভিলাইজেশনাল ইরেজারের’ মুখোমুখি।২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয়ের অন্যতম কারণ ছিল অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে তাঁর শক্ত অবস্থান।

হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের নতুন চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প পোশাকশ্রমিক সোহেদার জীবন সংগ্রাম ও স্বপ্ন পোশাকশ্রমিক সোহেদার জীবন সংগ্রাম ও স্বপ্ন স্বাস্থ্যসেবায় দালালের দৌরাত্ম্য: প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে সাধারণ রোগীর চিকিৎসা স্বাস্থ্যসেবায় দালালের দৌরাত্ম্য: প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে সাধারণ রোগীর চিকিৎসা পার্বত্য তিন জেলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর বছরে ৬১০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি পার্বত্য তিন জেলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর বছরে ৬১০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি মোংলা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত তৈরি হবে নতুন শিল্পাঞ্চল রুট মোংলা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত তৈরি হবে নতুন শিল্পাঞ্চল রুট পালিত হচ্ছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হচ্ছে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ইরানের কেশম দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর ইরানের কেশম দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়: ট্রাম্পের নীতিতে কী পরিবর্তন আসছে? মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়: ট্রাম্পের নীতিতে কী পরিবর্তন আসছে? ৭ নভেম্বরের চেতনা: রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের পথে বাংলাদেশ ৭ নভেম্বরের চেতনা: রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যের পথে বাংলাদেশ ট্রাম্পের নতুন চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার: অভিবাসন নীতির প্রধান কারিগর ট্রাম্পের নতুন চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার: অভিবাসন নীতির প্রধান কারিগর
সব খবর