ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ পুনর্বহাল ও নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের উত্তেজনা দেখা দেয়। বিক্ষোভকারীরা যেখানে অবস্থান করছিলেন, সেখানে স্থাপন করা তাঁবু সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই তাঁবুর নিচে কয়েকজন শিক্ষার্থী অনশনও করছিলেন।
শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (জেএমআইএসইউ) পুনর্বহাল এবং ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আয়োজন। ২০০৬ সালে ক্যাম্পাসে সহিংসতা ও শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্র সংসদ বিলুপ্ত করা হয়েছিল। এরপর থেকে ছাত্র সংসদ পুনরায় চালুর দাবিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
গত ১২ অক্টোবর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ দাবিতে বিক্ষোভ ও অনশন কর্মসূচি চলছে। আন্দোলনকারীরা ছাত্র সংসদ পুনর্বহালের পাশাপাশি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছেন। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে।
এর আগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন এবং জোর করে বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। কমিউনিস্ট ছাত্র সংগঠন আইসা অভিযোগ করেছে, জামিয়া প্রশাসন বিনা উস্কানিতে অনশনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মাহতাব আলম রিজভি অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেসের দুই সংসদ সদস্য ইমরান প্রতাপগড়ি ও ইমরান মাসুদ ক্যাম্পাসে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তিনি আরও দাবি করেন, গতকাল শুক্রবার ওই দুই নেতা দেয়াল টপকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছিলেন এবং তাদের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিঘ্নিত করেছে। এ ঘটনায় দিল্লি পুলিশের কাছে অভিযোগও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবি ও অসন্তোষ পর্যালোচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর আগে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছিল। কমিটির দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করা, তাদের অভিযোগ ও দাবিগুলো পর্যালোচনা করা এবং ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করা।
তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ছাত্র সংসদ পুনর্বহাল এবং নির্বাচনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

















