বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রতিটি ম্যাচ নিখুঁতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে ফিফা ব্যাপক বিনিয়োগ ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছিল। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর), সেমি-অটোমেটেড অফসাইড এবং ব্যাটারিচালিত স্মার্ট বল ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য ছিল রেফারির মানবিক ভুল কমিয়ে খেলাকে আরও দ্রুত ও নির্ভুল করা। ফিফার রেফারিং প্রধান ইতালির পিয়েরলুইজি কলিনার মতে, এই প্রযুক্তির লক্ষ্যই ছিল ভুল সিদ্ধান্তের হার কমিয়ে আনা। এমনকি ভিএআর-এর পরিধি বাড়িয়ে কর্নার, ফ্রি-কিক এবং ভুল হলুদ কার্ডের মতো বিষয়গুলোকেও রিভিউর আওতায় আনা হয়েছে।
তবে প্রযুক্তির ব্যবহার ফুটবলের মাঠ এবং গ্যালারিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ভিডিও পর্যালোচনার দীর্ঘসূত্রতা এবং খেলার স্বাভাবিক গতি ও আবেগ কমে যাওয়ায় দর্শক ও খেলোয়াড়রা হতাশ। গোল হওয়ার পর তাৎক্ষণিক উল্লাস করার সুযোগ থাকছে না, কারণ ভিএআর বা স্বয়ংক্রিয় অফসাইড প্রযুক্তির মাধ্যমে আক্রমণভাগে কোনো ছোটখাটো নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা দীর্ঘ সময় নিয়ে খতিয়ে দেখা হয়। এই প্রক্রিয়াটি ফুটবলকে যান্ত্রিক করে তুলছে বলে অনেকের অভিমত।
বিশেষ করে সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি নিয়ে সমালোচনা সবচেয়ে বেশি। খেলোয়াড়ের শরীরের অতি সূক্ষ্ম কোনো অংশ, যেমন জুতোর অগ্রভাগ বা চুলের সামান্য স্পর্শ প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে থাকলে গোল বাতিল করা হচ্ছে, যা মাঠের খেলার ওপর কোনো প্রভাব না ফেললেও প্রযুক্তির সূক্ষ্মতায় নিয়ম লঙ্ঘিত হচ্ছে। এছাড়া মাঝে মাঝে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে সঠিক অ্যানিমেশন গ্রাফিকস দেখাতে না পারায় দর্শকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
অনেকের মতে, প্রযুক্তির এই ব্যাপক ব্যবহারের ফলে মাঠের রেফারির নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব খর্ব হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে রেফারিরা স্পষ্ট সিদ্ধান্ত না নিয়ে ভিএআর টিমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। এছাড়া একই ধরনের ঘটনায় কোনো ম্যাচে ভিএআর হস্তক্ষেপ করলেও অন্য ম্যাচে নীরব থাকছে, যা প্রযুক্তির নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলছে। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই অসংলগ্ন সিদ্ধান্তের কারণে ম্যাচের ফলাফল সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত দলগুলোর খেলোয়াড় ও কোচদের মধ্যে চরম হতাশা ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তৈরি করছে।

















