গত ১১ জুন থেকে শুরু হওয়া ৪৮ দলের এই বিশাল ফুটবল মহাযজ্ঞে কোনো বিরতি ছিল না। টানা ২৭ দিন ধরে উত্তর আমেরিকার তিন দেশে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে মোট ১০৪টি ম্যাচের ধকল সামলাতে হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের। বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্যের কারণে রাত ও দিন একাকার হয়ে গিয়েছিল দর্শকদের কাছে। কখনো এক দিনে চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার ভক্তদের রাত জাগা বা ভোরে ওঠার মতো কঠিন রুটিনে অভ্যস্ত করে তুলেছিল। এমনকি অফিস বা কর্মক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়েছে অনেকের ওপর।
টানা ২৭ দিনের এই অবিশ্বাস্য ও দমবন্ধ রুটিনের পর ৯৬টি ম্যাচ শেষে আজ প্রথম কোনো ম্যাচ নেই। যারা পেশাগত কারণে খেলা দেখা ও লেখালেখি করেন, তাদের জন্যও আজকের দিনটি স্বস্তির। ল্যাপটপের আলোয় শুষ্ক চোখ আর কফির কাপে চুমুক দিয়ে রাত কাটানো সাংবাদিকদের জন্য এটি একটি নিশ্বাস ফেলার সময়।
টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে আসতে আসতে অনেক পরাশক্তির অহংকার চূর্ণ হয়েছে। শেষ বত্রিশে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস বিদায় নিয়েছে। শেষ ষোলোর মঞ্চে ব্রাজিল ও পর্তুগাল থেমে যাওয়ায় নেইমার ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শিরোপা জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার ভাগ্য নিয়ে পাঠক ইতিমধ্যে অবগত আছেন। এর মাঝে কেপ ভার্দের রূপকথা বা ভোজিনিয়া নামের গোলরক্ষকের উত্থান ছিল উল্লেখযোগ্য। মরক্কো আবারও প্রমাণ করেছে যে গত বিশ্বকাপের সাফল্য কোনো দুর্ঘটনা ছিল না, এবং তারা এখন কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হচ্ছে। অন্যদিকে, ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা নরওয়ে ব্রাজিলকে বিদায় করে দিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য প্রস্তুত।
আজকের দিনটি কোনো ট্যাকটিকস, ভিএআর বিতর্ক কিংবা পেনাল্টি মিসের কান্নার নয়। ডাগআউটের কোচদের চিন্তার ভাঁজগুলো আজ একটু মসৃণ হবে। অফিসফেরত মানুষের জন্য আজ জলদি ঘুমাতে যাওয়ার দিন। আগামীকাল থেকে আবারও মাঠের উত্তেজনায় দর্শকদের হৃৎপিণ্ড গলার কাছে আটকে আসবে, কিন্তু তার আগে আজ রাতটা ফুটবল ও ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নিবিড় ঘুমের।

















