ক্রিকেটের মাঠে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ফেনীর তরুণ মেহেদী হাসান হৃদয়। চট্টগ্রাম বিভাগ অনূর্ধ্ব-১৮ দলের এই প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটার লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জাতীয় দলে খেলার অদম্য ইচ্ছা পোষণ করতেন। কিন্তু মরণব্যাধি ক্যানসার তার সেই স্বপ্নের পথচলা অকালেই থামিয়ে দিল। গত শনিবার উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার পথেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার অকালমৃত্যুতে পরিবার, সতীর্থ ও স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
হৃদয়ের বাড়ি ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের মধুয়াই গ্রামে। তার বাবা আবুল কাশেম এবং মা-বাবার প্রথম সন্তান হৃদয়ের একটি ছোট বোন রয়েছে। তিনি রক্ত ও অস্থিমজ্জার ক্যানসার তথা অ্যাকিউট মাইয়েলাইড লিউকেমিয়ায় (এএমএল) আক্রান্ত ছিলেন। যে বয়সে সতীর্থদের সঙ্গে ব্যাট-বলের অনুশীলনে ব্যস্ত থাকার কথা, সেই বয়সেই তাকে প্রাণঘাতী এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে।
তার চিকিৎসার জন্য অতীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় পাশে দাঁড়িয়েছিল। গত ২ জুলাই বিসিবি কার্যালয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক হৃদয়ের বাবা আবুল কাশেমের হাতে চিকিৎসার জন্য ৫ লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছিলেন। একই পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল বিসিবিও। দুই প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার আশা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত মরণব্যাধির কাছে হার মানতে হলো তাকে।
চট্টগ্রাম বিভাগের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন হৃদয়। অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখার দারুণ সুযোগ ছিল তার সামনে। তার মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের প্রিয়জন হারানোর বেদনা নয়, বরং একজন ক্রিকেটপিপাসু তরুণের স্বপ্নের করুণ পরিণতি। মাঠে ব্যাট হাতে তার উপস্থিতি আর সতীর্থদের সঙ্গে ঘাম ঝরানোর স্মৃতি এখন কেবলই অতীত।

















