কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আন্তঃবিভাগ ফুটবল প্রতিযোগিতায় ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছে। টুর্নামেন্টের ফাইনালে লোক প্রশাসন বিভাগকে ২–১ গোলে পরাজিত করে ফিন্যান্স বিভাগ টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা অর্জন করেছে। এই উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনাল ম্যাচটি বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ ২–০ গোলের লিড নেয়। দ্বিতীয়ার্ধে লোক প্রশাসন বিভাগ একটি গোল শোধ করতে সক্ষম হলেও, শেষ পর্যন্ত ম্যাচে সমতা ফেরাতে পারেনি। এর ফলে লোক প্রশাসন বিভাগ টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
এর আগে, একই দিনে সকাল ১০টায় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয় অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ এবং বাংলা বিভাগ। এই ম্যাচে বাংলা বিভাগ ১–০ গোলে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগকে পরাজিত করে তৃতীয় স্থান দখল করে।
খেলা শেষে এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার খেলোয়াড়দের সংঘর্ষ এড়িয়ে সুষ্ঠুভাবে খেলার জন্য অভিনন্দন জানান এবং টুর্নামেন্ট সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বিজয়ী ও রানার্সআপ উভয় দলকেই অভিনন্দন জানান।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, এই বছর কোনো অঘটন ছাড়াই টুর্নামেন্ট শেষ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি ঊনিশটি বিভাগের খেলোয়াড়, প্রক্টোরিয়াল টিম, ক্রীড়া পরিচালনা কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের এই সাফল্যের কৃতিত্ব দেন। উপাচার্য আরও ঘোষণা করেন যে, চ্যাম্পিয়ন ফিন্যান্স বিভাগের খেলোয়াড়দের সাথে অন্যান্য ১৮টি দলের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি সমন্বিত দল গঠন করা হবে। এই দল বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল দল হিসেবে আগামী আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দল নির্বাচন করা হবে।
ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মহিউদ্দিন বলেন, সকলের সহযোগিতা ছাড়া এই টুর্নামেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পড়াশোনায় নয়, খেলাধুলার মাধ্যমেও সারা দেশে প্রতিনিধিত্ব করবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি এবং বিজয়ী ও রানার্সআপসহ সকল অংশগ্রহণকারীকে অভিনন্দন জানান।

















