মুম্বাইয়ের নিজ বাড়িতে ভয়াবহ ছুরিকাঘাতের ঘটনার এক বছরেরও বেশি সময় পার হওয়ার পর প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খান। গালফ নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি নিরাপত্তা, জীবন এবং মানুষের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।
সাইফ স্বীকার করেন যে, অতীতে তিনি ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়ে খুব একটা সচেতন ছিলেন না এবং সবসময় বিষয়টি খোলামেলা রাখতেই পছন্দ করতেন। কিন্তু সেই হামলা তাকে কঠোর সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা শিখিয়েছে। তিনি বলেন, এই পৃথিবী যেমন অনেক সুবিধাভোগী মানুষের, তেমনি অনেক বঞ্চিত মানুষেরও। তাই ভাগ্যকে চ্যালেঞ্জ না করে দরজা বন্ধ রাখা এবং মূল্যবান সম্পদ নিরাপদে রাখার গুরুত্ব এখন তিনি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।
হামলাটিকে নিছক একটি ব্যক্তিগত ঘটনা হিসেবে না দেখে অভিনেতা এটিকে সমাজের বৈষম্যের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। তিনি মনে করেন, সুবিধাভোগী ও কম সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষের মধ্যকার ব্যবধানই এ ধরনের ঘটনার মূল কারণ। ঘটনাটি ঘটার পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই সহিংস মুহূর্ত, দ্রুত ঘটে যাওয়া ঘটনা এবং মৃত্যুর কাছাকাছি চলে যাওয়ার অনুভূতি তাকে এখনো তাড়া করে ফেরে।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে সাইফ জানান, হামলার সময় শরীরে অ্যাড্রেনালিনের প্রবল স্রোত তাকে অদ্ভুত এক প্রশান্তি দিয়েছিল। তিনি বলেন, সে সময় মনে হয়েছিল জীবনটা সত্যিই অসাধারণ ছিল এবং তিনি বেশ শান্ত ছিলেন। এই অভিজ্ঞতা তাকে জীবন সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ভোররাতে সাইফ আলী খানের বাড়িতে এক অনুপ্রবেশকারী ঢুকে পড়ে। চুরির চেষ্টার সময় অনুপ্রবেশকারীর ছুরিকাঘাতে অভিনেতা তার মেরুদণ্ড, ঘাড় ও হাতে গুরুতর আঘাত পান। ঘটনার পরপরই তাকে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন।

















