ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ ইউনিয়নের কলেজপাড়ার বিরেশ দিঘিতে শুক্রবার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হলো শৌখিন মৎস্য শিকার প্রতিযোগিতা। ভোর সাড়ে ছয়টা থেকে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা পর্যন্ত চলা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাজিমাত করেছেন আবদুল হান্নান নামের এক শৌখিন মাছশিকারি। তিনি বড়শিতে দুটি বড় কাতলা মাছ ধরে প্রথম ও তৃতীয় পুরস্কার অর্জন করেছেন। সব মিলিয়ে তিনি ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা পুরস্কার জিতে বাড়ি ফিরেছেন।
প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ‘সরাইল মৎস্য চাষ প্রকল্প’ নামের একটি সমিতি। পৌনে তিন একর আয়তনের এই দিঘিটি প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর পরিবারের মালিকানাধীন, যা সমিতিটি বন্ধক নিয়ে নিয়মিত মৎস্য শিকার প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এবারের আয়োজনে ঢাকা, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ৪৮ জন প্রতিযোগী অংশ নেন। লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত ২৪টি মাচায় তারা বড়শি ফেলেন। প্রতিটি আসনের জন্য প্রতিযোগীদের ২৬ হাজার টাকা করে ফি দিতে হয়েছে।
পুরস্কার বিজয়ী আবদুল হান্নান সরাইল সদরের স্বল্পনোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ৫ কেজি ৪০৫ গ্রাম ওজনের একটি কাতলা মাছের জন্য প্রথম পুরস্কার হিসেবে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ৩ কেজি ৮৯৫ গ্রাম ওজনের আরেকটি কাতলা মাছের জন্য তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা জিতে নেন। পুরস্কার জয়ের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি জানান, একই প্রতিযোগিতায় দুটি পুরস্কার পেয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
প্রতিযোগিতার অন্যান্য বিজয়ীদের মধ্যে কালীকচ্ছের সূর্যকান্দী গ্রামের আবদুল মোমেন ৪ কেজি ৫১০ গ্রাম ওজনের কাতলা ধরে দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ৯০ হাজার টাকা পেয়েছেন। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মেড্ডার জামাল হোসেন চতুর্থ হয়ে ৪০ হাজার এবং হবিগঞ্জের মাধবপুরের সাইদুল হোসেন পঞ্চম হয়ে ৩৫ হাজার টাকা জিতেছেন। মোট ৪ লাখ ২৭ হাজার টাকার ৬টি পুরস্কার ছাড়াও সান্ত্বনা পুরস্কারের ব্যবস্থা ছিল।
আয়োজক সমিতির সভাপতি আলী মিয়া জানান, এটি তাদের এ বছরের ষষ্ঠ আয়োজন। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া মাছশিকারিদের টিকিটের বাইরেও আনুষঙ্গিক অনেক খরচ করতে হয়। অনেকে আবার ভাড়াটে শিকারি নিয়ে আসেন, যাদের পুরস্কারের ১০ শতাংশ টাকা দিতে হয়। দিনব্যাপী এই আয়োজন ঘিরে দিঘির পাড়ে বিপুল সংখ্যক দর্শকের সমাগম ঘটেছিল।

















