বিশ্ব

ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন: ট্রাম্পের নীতির প্রভাব ও ভারতের কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ

প্রতিবেদক
দক্ষিণাঞ্চলের জন্য রাস্তা ও রেলপথ ভিক্ষা চেয়েছেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ দক্ষিণাঞ্চলের জন্য রাস্তা ও রেলপথ ভিক্ষা চেয়েছেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই: প্রতিমন্ত্রী নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই: প্রতিমন্ত্রী বরিশালে সমকাল অফিসের ভেতর থেকে সাংবাদিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বরিশালে সমকাল অফিসের ভেতর থেকে সাংবাদিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ইউনিয়ন পর্যায়ে ছোট ব্যবসায় মাসে ৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনা ইউনিয়ন পর্যায়ে ছোট ব্যবসায় মাসে ৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনা বরিশালে সমকালের সাবেক ব্যুরো প্রধান পুলক চ্যাটার্জির মরদেহ উদ্ধার বরিশালে সমকালের সাবেক ব্যুরো প্রধান পুলক চ্যাটার্জির মরদেহ উদ্ধার ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ বড়শিতে জোড়া কাতলা ধরে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা জিতলেন আবদুল হান্নান বড়শিতে জোড়া কাতলা ধরে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা জিতলেন আবদুল হান্নান অর্থনীতি ধ্বংস করে পালিয়েছে আওয়ামী লীগ: ডা. জাহিদ অর্থনীতি ধ্বংস করে পালিয়েছে আওয়ামী লীগ: ডা. জাহিদ জুমার খুতবায় আপত্তিকর মন্তব্য: পদত্যাগ করলেন রানিহাটির ইমাম জুমার খুতবায় আপত্তিকর মন্তব্য: পদত্যাগ করলেন রানিহাটির ইমাম বরিশালে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বরিশালে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সব খবর

আগামী শনিবার দিল্লিতে শুরু হতে যাওয়া দুই দিনের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রভাব একটি বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে। সম্মেলনে আয়োজক ভারত ছাড়াও চীন, রাশিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ইরানসহ ব্রিকসের ১১টি দেশের নেতারা অংশ নিচ্ছেন। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সৌদি আরবও সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে।

এই সম্মেলনে বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেওয়া বিভিন্ন নীতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাবে। বিশেষ করে, ইরান যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের অব্যাহত হুমকি বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

তবে, এই সম্মেলন থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সমালোচনা করে বা ট্রাম্পের নীতি ও ভূরাজনীতির মোকাবিলায় সমন্বিত কৌশলের বিষয়ে কোনো যৌথ বিবৃতি আসার সম্ভাবনা কম। এর প্রধান কারণ হলো, ওয়াশিংটনকে চ্যালেঞ্জ করার বিষয়ে ব্রিকস সদস্যদের মধ্যে গভীর বিভাজন রয়েছে। আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বিবিসিকে বলেন, ‘ভারতের এমন কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়ার সক্ষমতা নেই, যা ওয়াশিংটনের বিপক্ষে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রসারিত ব্রিকসের সদস্যদের স্বার্থের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। সে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির যেকোনো সমালোচনা হবে ‘অস্পষ্ট ও পরোক্ষ’।

রাশিয়া ও ইরান জোটটি যেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরও স্পষ্ট অবস্থান নেয়, সেই চেষ্টা করতে পারে। তবে ব্রিকসের ভেতরের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা তা কঠিন করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর্যায়ে থাকায় দিল্লি এমন কোনো বিবৃতি দিতে চাইবে না যা হোয়াইট হাউসকে অসন্তুষ্ট করতে পারে। চীনও সতর্ক থাকবে যেন ব্রিকসকে ওয়াশিংটনকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে এমন ধারণা তৈরি না হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে এমন কোনো বিবৃতিতে সমর্থন দেবে না, কারণ তারা মার্কিন ঘাঁটি থাকা সত্ত্বেও ইরানের পাল্টা হামলার শিকার হয়েছিল।

কুগেলম্যানের মতে, ব্রিকসের সম্প্রসারণ জোটটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে, তবে এর ফলে সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছানোও কঠিন হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আপনি এমন বেশ কয়েকটি সদস্যকে যুক্ত করেছেন, যাদের মধ্যে বনিবনা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বব্যবস্থা নিয়ে নানা মত ও ভিন্ন অবস্থান থাকা’ দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ট্রাম্প নিজেও ব্রিকসের বিরুদ্ধে সোচ্চার, বিশেষ করে বৈশ্বিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর (ডি-ডলারাইজেশন) প্রচেষ্টার সমালোচনা করেন তিনি। তিনি একবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ব্রিকসের দেশগুলো ‘শক্তিশালী মার্কিন ডলারের’ বিকল্প কোনো মুদ্রাকে সমর্থন করলে তাদের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

গত এক দশকে ব্রিকসের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। জোটটি এখন বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪৯ শতাংশ, বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪০ শতাংশ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ২৬ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ব্রিকসের উল্লেখযোগ্য অর্জন হলো নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি) প্রতিষ্ঠা, যা অবকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পে বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন করেছে। এছাড়া, আর্থিক সংকটে পড়া সদস্যদেশগুলোকে সহায়তা দিতে ব্রিকস ১০ হাজার কোটি ডলারের একটি জরুরি রিজার্ভ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।

এবারের সম্মেলনে ব্রিকসের নেতারা স্থানীয় মুদ্রায় আন্তসীমান্ত লেনদেন সহজ করার উপায় নিয়েও আলোচনা করতে পারেন, যা মস্কো ও তেহরানের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিকস উন্নয়নশীল দেশগুলোর কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও জোরালো করতে পারে এবং জাতিসংঘ, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানে সংস্কারের দাবি জানাতে পারে।

ভারতের জন্য এই সম্মেলন বৈশ্বিক দক্ষিণের নেতৃত্ব দেওয়ার দাবিকে জোরালো করার সুযোগ তৈরি করছে। বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা, বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্ব এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৃহত্তর প্রতিনিধিত্বের মতো বিষয়গুলো ভারতের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারগুলোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তবে, ভারতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে চীনের উল্লেখযোগ্য প্রভাব মোকাবিলা করা। কুগেলম্যান উল্লেখ করেন যে, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় ভারতের প্রভাব গভীর করার প্রচেষ্টা ‘সাফল্য সীমিত’, যেখানে চীন তুলনামূলকভাবে বেশি সফল হয়েছে।

এই সম্মেলন থেকে একটি যৌথ বিবৃতি আদায় করা দিল্লির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে, কারণ ইরান যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে। গত মে মাসে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইরানের যুদ্ধ নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে একটি যৌথ বিবৃতি দিতে পারেননি। তবে, ২০২৩ সালে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের অভিজ্ঞতা থেকে ভারত আত্মবিশ্বাসী হতে পারে, যেখানে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে বিভাজন সত্ত্বেও একটি যৌথ ঘোষণা আদায় করতে সক্ষম হয়েছিল।

দিল্লি এটাও চাইবে যে, এবারের ব্রিকস সম্মেলন থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসুক এবং জোটটির সাফল্যগুলো তুলে ধরা হোক। সদস্যদেশগুলোর এতে একমত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, কারণ কেউই ব্রিকসকে কেবল ‘কথার দোকান’ হিসেবে দেখতে চায় না।

সম্মেলনকে সামনে রেখে দিল্লি দুর্গের মতো নিরাপত্তাবেষ্টিত করা হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এরই মধ্যে দিল্লিতে পৌঁছেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে। তাঁরা দুই দেশের বিশেষ সম্পর্ক আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন এবং জ্বালানি, প্রতিরক্ষা সহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

শনিবার চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের দিকে বিশেষ নজর থাকবে। দুই দেশ ধীরে ধীরে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে, তবে অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীর। ভূরাজনীতির বাইরেও রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যঘাটতি দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

কুগেলম্যান বলেন, এই সম্মেলনে ভারতের জন্য ঝুঁকি ও গুরুত্ব বিশেষভাবে বেশি। তাঁর মতে, ইরানের যুদ্ধ ঘিরে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাসহ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় দিল্লি কিছুটা আড়ালে পড়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘বিশ্বে ভারতের গুরুত্ব ও নেতৃত্ব আবারও জোরালোভাবে তুলে ধরার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এ কারণেই এই সম্মেলন ভারতের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ।’

দক্ষিণাঞ্চলের জন্য রাস্তা ও রেলপথ ভিক্ষা চেয়েছেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ দক্ষিণাঞ্চলের জন্য রাস্তা ও রেলপথ ভিক্ষা চেয়েছেন শফিকুল ইসলাম মাসুদ নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই: প্রতিমন্ত্রী নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই: প্রতিমন্ত্রী বরিশালে সমকাল অফিসের ভেতর থেকে সাংবাদিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বরিশালে সমকাল অফিসের ভেতর থেকে সাংবাদিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ইউনিয়ন পর্যায়ে ছোট ব্যবসায় মাসে ৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনা ইউনিয়ন পর্যায়ে ছোট ব্যবসায় মাসে ৫০০ টাকা ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনা বরিশালে সমকালের সাবেক ব্যুরো প্রধান পুলক চ্যাটার্জির মরদেহ উদ্ধার বরিশালে সমকালের সাবেক ব্যুরো প্রধান পুলক চ্যাটার্জির মরদেহ উদ্ধার ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার: চিফ হুইপ বড়শিতে জোড়া কাতলা ধরে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা জিতলেন আবদুল হান্নান বড়শিতে জোড়া কাতলা ধরে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা জিতলেন আবদুল হান্নান অর্থনীতি ধ্বংস করে পালিয়েছে আওয়ামী লীগ: ডা. জাহিদ অর্থনীতি ধ্বংস করে পালিয়েছে আওয়ামী লীগ: ডা. জাহিদ জুমার খুতবায় আপত্তিকর মন্তব্য: পদত্যাগ করলেন রানিহাটির ইমাম জুমার খুতবায় আপত্তিকর মন্তব্য: পদত্যাগ করলেন রানিহাটির ইমাম বরিশালে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার বরিশালে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
সব খবর