প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ৫৮
কুমিল্লার বাসিন্দা জাফর হোসেনের মৃত্যুর পর তার পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন যে, তিনি গোপনে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিলেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত এই প্রকৌশলী ঢাকায় চাকরি করার সময় ধানমন্ডিতে একটি পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করেছিলেন এবং নিজ জেলায়ও তার প্রচুর সম্পত্তি ছিল। জাফর হোসেনের মৃত্যুর পর তার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানেরা জানতে পারেন, ধানমন্ডির ভবন ছাড়াও তার আরও ফ্ল্যাট ও প্লট রয়েছে।
জাফর হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে এক ছেলে এবং প্রথম স্ত্রীর তিন মেয়ে রয়েছেন। ২০২২ সালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর থেকে তার স্বজনেরা সম্পত্তি নিয়ে জটিলতায় পড়েন। বিশেষ করে ধানমন্ডির পাঁচতলা বাড়িটি দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রি ও নামজারি থাকায় প্রথম স্ত্রী ও তার সন্তানরা আইনি ও পারিবারিকভাবে বিপাকে পড়েন।
জাফর হোসেনের প্রথম স্ত্রী সেলিনা হোসেন জানান, মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী ছেলে সন্তান না থাকায় তিন মেয়ের প্রাপ্য সম্পত্তির অংশ কমে যাচ্ছে, কারণ দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার ছেলেও সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হচ্ছেন।
বাংলাদেশের মুসলিম আইন অনুযায়ী, একজন পুরুষ সর্বোচ্চ চারজন স্ত্রী রাখতে পারেন। যদি কেউ চারজনের পর পঞ্চম বিয়ে করেন, তবে সেই বিয়ে বাতিল না হলেও তা ‘অনিয়মিত বিয়ে’ হিসেবে বিবেচিত হয়। আইনজীবীদের মতে, কোনো ব্যক্তি জীবিত থাকা অবস্থায় তার সম্পত্তির ওয়ারিশ তৈরি হয় না। তিনি নিজে তার সব সম্পত্তির মালিক হিসেবে জীবদ্দশায় ইচ্ছা অনুযায়ী সম্পত্তি বিক্রি, হেবা বা দান করতে পারেন। মৃত্যুর পরই কেবল উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী সম্পত্তি বণ্টন প্রক্রিয়া কার্যকর হয়।

















