২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংসের মধ্যকার ম্যাচের পর সংস্কারের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল জাতীয় স্টেডিয়াম। ২০২৫ সালে সংস্কার শেষে আন্তর্জাতিক ম্যাচের আয়োজন শুরু হলেও শীর্ষ ঘরোয়া ফুটবলকে সেখানে ফেরানোর বিষয়টি এতদিন অনিশ্চিতই ছিল। তবে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও প্রাণ ফিরে পেতে যাচ্ছে স্টেডিয়ামটি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের পর এবার ঘরোয়া ফুটবলের বড় আসরগুলো এই মাঠে ফেরানোর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
বাফুফের কমপিটিশন, প্রকিউরমেন্ট ও গ্রাউন্ডস কমিটির যৌথ সভায় ভেন্যুগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনার পর গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন এই সম্ভাবনার কথা জানান। তিনি বলেন, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পর ফেডারেশন কাপের ফাইনাল কিংবা লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজন করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের ফুটবলের ইতিহাস ও আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই স্টেডিয়ামে আবারও গ্যালারিভর্তি দর্শক ও উত্তেজনাকর লড়াই দেখার অপেক্ষায় আছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
এদিকে, আসন্ন ৪ থেকে ১৭ নভেম্বরের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে স্টেডিয়ামটিকে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘরোয়া ফুটবলের জন্য মাঠ প্রস্তুত করার অংশ হিসেবে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে ঘাস লাগানোর কাজ চলছে, যা আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পরিদর্শন করবে বাফুফের প্রতিনিধিদল। এছাড়া গাজীপুর, বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা, কুমিল্লা ও মুন্সিগঞ্জের ভেন্যুগুলোকেও ঘরোয়া ম্যাচ আয়োজনের উপযোগী বলে মনে করছে ফেডারেশন।
তবে ঘরোয়া ফুটবলের ফেরার পথে সূচি নিয়ে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। ১৮ ও ২২ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী লিগ ও ফেডারেশন কাপের ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। যদিও দশটি ক্লাব ছয় দফা দাবি জানিয়ে বাফুফেকে চিঠি দিয়েছে। যদিও লিগ কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানিয়েছেন, আপাতত আগের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই লিগ শুরু হবে। ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। ৫ বছরের নীরবতা ভেঙে জাতীয় স্টেডিয়ামে ঘরোয়া ফুটবলের বল গড়ালে তা বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য নতুন এক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

















