ভোলার চরফ্যাশন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নকে নিয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছে চরফ্যাশন প্রেসক্লাব। প্রেসক্লাব নেতারা এই রিটকে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেছেন। একই সঙ্গে, রিটে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও তথ্য-প্রমাণাদি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
প্রেসক্লাব সভাপতি জুলফিকার মাহমুদ নিয়াজ সভার আলোচনায় বলেন, রিট দায়েরের মাধ্যমে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির রাজনৈতিক এবং সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার একটি অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কোনো বিষয়ে যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে তা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবং দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কাছে নিষ্পত্তি করাই নিয়ম। তথ্য-প্রমাণ যাচাই না করে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মন্তব্য বা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো অনুচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে যেসব প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে প্রেসক্লাব নেতারা জানান, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের পড়াশোনার পর এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করা উচ্চশিক্ষার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তারা দাবি করেন, নুরুল ইসলাম নয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে ইবাইস ইউনিভার্সিটির ধানমন্ডি শাখা থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ইবাইস ইউনিভার্সিটির ওই শাখার অনুমোদন এবং সনদের বৈধতা নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, তা নিরসনে মূল একাডেমিক রেকর্ডপত্র ও অনুমোদন যাচাই করার পরামর্শ দেন সাংবাদিক নেতারা।
বক্তারা সভায় স্পষ্টভাবে বলেন, যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক নথি ও নির্ভরযোগ্য তথ্য যাচাই করা অপরিহার্য। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ধরনের অবমাননাকর বা অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তারা। তবে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটে সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগ আনা হয়েছে এবং আদালত এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা বা পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন কি না, তা রিটের নথি ও আদালতের আদেশ পর্যালোচনা ছাড়া নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।

















