ভোলার মনপুরা উপজেলায় মসজিদের উন্নয়ন কাজের হিসাব নিয়ে কথা বলাকে কেন্দ্র করে আব্দুজ জাহের নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক উপজেলার দক্ষিণ রহমানপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের পচাঁ কোড়ালিয়া বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় মুসল্লিদের সূত্রে জানা যায়, জুমার নামাজের বয়ান শেষে মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহে আলম উন্নয়ন কাজের হিসাব দিচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা বিল্লাল হোসেন কাজের তুলনায় শ্রমিক ও খরচের পরিমাণ বেশি হয়েছে বলে প্রশ্ন তোলেন। তখন মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি ও শিক্ষক আব্দুজ জাহের মাস্টার তাকে দায়িত্ব নিয়ে কাজটি করার অনুরোধ জানালে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে জাহের মাস্টারকে অপমানজনক কথা বলা হলে তার ছেলে সুমন ও নূর হোসেন প্রতিবাদ করেন। অভিযোগ রয়েছে যে, এরপর বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে পাঞ্জাত আলী রাড়ী, বাকের রাড়ী, মো. সালাউদ্দিন সরদার ও সিরাজ সরদারসহ কয়েকজন মিলে জাহের মাস্টার ও তার ছেলেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় শিক্ষক জাহের গুরুতর আহত হন এবং তার পরনের পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষক আব্দুজ জাহের বলেন, মসজিদের উন্নয়নে শরিক হওয়া সবার দায়িত্ব। আমার ছেলে পারিশ্রমিক ছাড়াই দুই দিন শ্রম দিয়েছে। আমি শুধু বিল্লালকে বলেছিলাম তুমি দায়িত্ব নিয়ে কাজটি করলেই তো হতো। কেবল এ কথার কারণেই পরিকল্পিতভাবে আমার ও আমার ছেলেদের ওপর মব সৃষ্টি করে হামলা চালানো হয়। ঘটনার জেরে জুমার নামাজ শেষ না করেই তাকে মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসতে হয় এবং তিনি এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। মসজিদ কমিটির সভাপতি শাহে আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় তারা লজ্জিত।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মনপুরা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মনোয়ারা বেগম বলেন, শিক্ষকরা জাতি গড়ার কারিগর, তাদের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই। তবে অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মনপুরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং সত্যতা যাচাই করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খান সালমান হাবীব জানিয়েছেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে; কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না।

















