কানাডার ৫১তম মার্কিন অঙ্গরাজ্য হওয়ার কোনো আগ্রহ নেই, তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অনানুষ্ঠানিক ২৮তম সদস্য হওয়ার চেষ্টা দেশটির জন্য হঠকারী সিদ্ধান্ত হতে পারে। সম্প্রতি ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন কানাডাকে ইইউর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ হওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো উৎপাদন, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও জ্বালানি খাত সমন্বয়ের মাধ্যমে কানাডাকে ওয়াশিংটনের বদলে ব্রাসেলসের দিকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা। আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় একটি শীর্ষ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ‘মধ্যম শক্তিগুলোকে’ একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ থেকে কার্নি উত্তর আমেরিকার বাণিজ্যিক জোট থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন, যা অঞ্চলটির অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। ইইউ নিজেদের যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করছে, তবে মুক্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তাদের নিয়মকানুন বেশ জটিল। জোটের বাইরের দেশগুলোর জন্য ইইউর সংরক্ষণবাদী প্রবণতা রয়েছে এবং সদস্যদেশগুলোর বাণিজ্য চুক্তিও ব্রাসেলসের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
ইইউতে নিযুক্ত কানাডার রাষ্ট্রদূত জোনাথন উইলকিনসন স্পষ্ট করেছেন যে, সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দিতে হয় এমন কোনো চুক্তিতে কানাডা রাজি হবে না। তবে জোটে যোগদানের ক্ষেত্রে কিছু মূল্য দিতেই হয়। ফন ডার লেয়েনের প্রস্তাবিত প্রযুক্তি জোটে যুক্ত হলে কানাডাকে ইইউর কঠোর জিডিপিআর বা ডিজিটাল সার্ভিসেস ট্যাক্সের মতো বিধিনিষেধ গ্রহণ করতে হতে পারে। আইসল্যান্ডের মতো দেশগুলো অতীতে মৎস্য কোটার মতো বিষয় নিয়ে ইইউতে যোগদানের ব্যাপারে অনাগ্রহ দেখিয়েছে, কারণ এতে তাদের জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয় ছিল।
ইইউ নিজেকে একটি ‘নিয়ন্ত্রক পরাশক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করে, যা প্রায় প্রতিটি জননীতিতে প্রভাব বিস্তার করতে চায়। সমালোচকদের মতে, এই কঠোর বিধিনিষেধ জাতীয় সার্বভৌমত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, যার বড় উদাহরণ ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট গণভোট। কার্নির সাথে ফন ডার লেয়েনের ঘনিষ্ঠতা ট্রাম্পের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের দূরে সরে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে। তবে দুই দেশের সম্পর্কের তিক্ততা সময়ের সঙ্গে কমতে পারে। ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নেওয়ার আগে পর্যন্ত শুল্ক নিয়ে টানাপোড়েন চললে কানাডা হয়তো ব্রাসেলসের আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আরও গভীরভাবে আটকে যেতে পারে।
জোটের অভ্যন্তরীণ একক বাজার ২৭ সদস্যদেশকে সুবিধা দেয় এবং পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যকে সহজ করে।
দেশটির রপ্তানি আয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে এই খাত থেকে।ইইউ নিজেকে একটি ‘নিয়ন্ত্রক পরাশক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করে।

















