বাংলাদেশ ব্যাংকের ঐতিহাসিক অর্থ চুরির ঘটনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কোনো প্রভাব ছিল কি না, তা নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম। আজ শনিবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এফডিসি) আয়োজিত ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ ও মানব সভ্যতার অস্তিত্বের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক প্রসারের ফলে বর্তমানে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। সাইবার নিরাপত্তার অবস্থা এখন অত্যন্ত নাজুক। তিনি আরও বলেন, সত্যকে গুজব এবং গুজবকে সত্যে পরিণত করার মাধ্যমে এআই ব্যবহার করে বিশ্বকে অচেনা করে তোলা হচ্ছে। মানুষের মতো এআই-এর ‘কমনসেন্স’ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুপার এআই আসার আগেই বিশ্ব সমঝোতার মাধ্যমে এর ওপর আইনি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এআই কোনো বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরির জন্য আসেনি, বরং এর মাধ্যমেই আমাদের টিকে থাকার পথ খুঁজে নিতে হবে বলে তিনি মত দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্বকালে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য আশীর্বাদ হলেও এর অপব্যবহার সমাজে বিশৃঙ্খলা ও প্রতারণার হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এআই ব্যবহার করে ভুয়া ছবি, ভিডিও ও অডিও ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে ঘৃণা ছড়ানো এবং অপসাংবাদিকতা চলছে, যা মূলধারার গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
তিনি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমাদের ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা ও ব্যান্ডউইথ চাহিদার বড় অংশ প্রতিবেশী দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থেকে যায়। তাই জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
উল্লেখ্য, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ মানবসভ্যতার জন্য আশীর্বাদ নয়, অস্তিত্বের সংকট’ শীর্ষক এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে হারিয়ে সরকারি তিতুমীর কলেজ জয়লাভ করে। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, ড. শাকিলা জেসমিন, মাইদুর রহমান রুবেল ও আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলের মাঝে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

















