সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে জাপানের নাগোয়ার পালোমা মিজুহো স্টেডিয়ামের আলোকছটায় জেগে উঠল পুরো এশিয়া। হৃদয়ের সুরেলা স্পন্দন বা ‘হারমনিক হার্ট বিট’ মূলভাবনায় আয়োজিত এশিয়ান গেমসের ২০তম আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ছিল সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন। ১৯৫৮ সালে টোকিও এবং ১৯৯৪ সালে হিরোশিমার পর ৩২ বছর বিরতি দিয়ে জাপানে ফেরা এই মহাদেশীয় ক্রীড়া আসরের উদ্বোধনী মঞ্চে প্রযুক্তির আধুনিকতার সাথে জাপানের প্রকৃতির সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে দারুণভাবে। স্টেডিয়ামের সংস্কারকৃত পালোমা মিজুহো স্টেডিয়ামে প্রায় ৩০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার পাশাপাশি উদ্বোধনের জন্য অস্থায়ী আসনও যুক্ত করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাপানের আকাশ রাঙিয়ে দেয় বিমান বাহিনীর ‘ব্লু ইমপালস’। তারা আকাশে ধোঁয়ার রেখায় এক বিশাল হৃদয়ের আকৃতি তৈরি করে, যা ছিল মূল মঞ্চের হৃদয়ের প্রতীকের প্রতিফলন। বেহালাবাদক তারো হাকাসের সুরের মূর্ছনায় নাগোয়া ও আইচির ২৪০ নৃত্যশিল্পী মানুষের পারস্পরিক সংযোগ ও বন্ধুত্বের বার্তা নিয়ে মঞ্চ মাতান। জাপানের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর শুরু হয় ক্রীড়াবিদদের মার্চপাস্ট। বর্ণিল এই পদযাত্রায় বাংলাদেশের পতাকা বহন করেন শুটার আবদুল্লাহ হিল বাকি ও কারাতেকা হুমাইরা আক্তার অন্তরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাপানের ঐতিহ্যবাহী সিংহ নৃত্য এবং নাগোয়া দুর্গের আদলে তৈরি বেলুন কাঠামোর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ব্যবহার ছিল বিশেষ আকর্ষণ। টয়োটার মতো প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত প্রদর্শনী এবং ভবিষ্যৎমুখী যানের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে এক নতুন মাত্রা দেয়। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সভাপতি কার্স্টি কভেন্ট্রি, ওসিএ সভাপতি শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল থানি এবং জাপানের সম্রাট নারুহিতো ও সম্রাজ্ঞী মাসাকো এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন। সম্রাট নারুহিতো আনুষ্ঠানিকভাবে গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
অনুষ্ঠানের আবেগঘন মুহূর্তটি আসে মশাল প্রজ্জ্বলনের সময়। জাপানের হ্যামার থ্রোয়ার শিগেনোবু মুরোফুশি এবং তার ছেলে, ২০০৪ সালের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন কোজি মুরোফুশি যৌথভাবে মশাল বহন করেন। দুই প্রজন্মের এই দুই কিংবদন্তির হাতে এশিয়ান গেমসের মূল আগুন জ্বলে ওঠার মাধ্যমে খেলাধুলার ভালোবাসার অটুট বন্ধন ফুটে ওঠে। আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই আসরে ৪৫টি দেশের প্রায় ১১ হাজার ক্রীড়াবিদ ৪৩টি ডিসিপ্লিনে পদক জয়ের লড়াইয়ে নামবেন। প্রযুক্তির জয়গান ও প্রকৃতির সহাবস্থানে নাগোয়ার এই আসর কেবল জয়-পরাজয়ের হিসাব নয়, বরং এশিয়ার মানুষের একাত্মতার এক নতুন গল্প লিখে রাখল।

















