পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের তিন সাবেক রাজ্যসভা সদস্য সুস্মিতা দেব, সুখেন্দু শেখর রায় এবং প্রকাশ চিক বরাইক আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দিয়েছেন। কলকাতার সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের রাজ্য সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য তাদের বরণ করে নেন। এই যোগদানের ফলে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে আগামী ২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাজ্যসভার উপনির্বাচনের প্রেক্ষাপটে। ধারণা করা হচ্ছে, বিজেপির প্রার্থী হিসেবে তারা আবারও উচ্চকক্ষে ফিরতে পারেন।
আগামী উপনির্বাচনে তারা প্রার্থী হবেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে সমীক ভট্টাচার্য সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বলেন, ‘আলোচনা চলতে দিন।’ তৃণমূল নেতাদের দলে নেওয়ার বিষয়ে বিজেপির আগের অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো নীতিগত পরিবর্তন নয়, বরং একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা বলেছিলাম তৃণমূল নেতাদের জন্য দরজা বন্ধ, সেই অবস্থান এখনও বহাল। তবে যারা দুর্নীতি, অত্যাচার বা চাকরি বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, তারা তৃণমূলের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইয়ে যোগ দিতে পারেন।’ তিনি বিশ্বাস করেন, এই তিন নেতার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বিজেপিকে আরও শক্তিশালী করবে।
২০২১ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া সুস্মিতা দেব বিজেপিতে যোগ দিয়ে শাসক দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরই বুঝতে পেরেছি দুর্নীতির ব্যাপ্তি কতটা অবিশ্বাস্য হতে পারে। আমার সমালোচকরা নানা অভিযোগ তুলতে পারেন, কিন্তু কেউ বলতে পারবেন না যে আমি কখনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম।’ সুখেন্দু শেখর রায়ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। অতীত রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্নের জবাবে সমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘প্রত্যেক মানুষেরই অতীত থাকে। এখন তাদের একমাত্র পরিচয়, তারা বিজেপির কর্মী।’
আসামে থাকা সত্ত্বেও কলকাতায় এসে সদস্যপদ গ্রহণের কারণ হিসেবে সুস্মিতা দেব জানান, এটি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত ছিল। তিনি বলেন, আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা তাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, যেহেতু পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাকে দুইবার রাজ্যসভায় নির্বাচিত করেছেন, তাই তাদের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত। সমীক ভট্টাচার্য জানান, সুস্মিতা দেব কেবল পশ্চিমবঙ্গে নয়, সারা দেশেই বিজেপির সাংগঠনিক কাজে ভূমিকা রাখবেন। গত মাসে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর এই তিন নেতা তাদের সদস্যপদ ও দল ত্যাগ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংখ্যার বিচারে বিজেপির তিনটি আসনেই জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যা এই তিন নেতার পুনরায় রাজ্যসভায় ফেরার জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে।

















