বিশ্ব

সাদ্দাম হোসেনের ইরান আগ্রাসন: আট বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ইতিবৃত্ত

প্রতিবেদক
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী নিউ ইয়র্কে ট্রাম্প দম্পতির অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে তারেক ও জুবাইদা নিউ ইয়র্কে ট্রাম্প দম্পতির অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে তারেক ও জুবাইদা যুক্তরাষ্ট্রে এরদোয়ানের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক, সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার যুক্তরাষ্ট্রে এরদোয়ানের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক, সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার চলন্ত মেট্রোরেলের দরজা খুলে বিভ্রাট, ২৬ মিনিট বন্ধ ট্রেন চলাচল চলন্ত মেট্রোরেলের দরজা খুলে বিভ্রাট, ২৬ মিনিট বন্ধ ট্রেন চলাচল সরকারি কেনাকাটায় ২০ বছরের সুযোগবঞ্চিতদের জন্য নতুন সুযোগ ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ পাঠ্যবই পৌঁছানোর লক্ষ্য ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ পাঠ্যবই পৌঁছানোর লক্ষ্য সারের সংকট নেই বলা কুড়িগ্রামের কৃষি কর্মকর্তা স্ট্যান্ড রিলিজ সারের সংকট নেই বলা কুড়িগ্রামের কৃষি কর্মকর্তা স্ট্যান্ড রিলিজ মিশিগান ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্মানজনক যুব নেতৃত্ব পুরস্কার জিতলেন তাহমিদ চৌধুরী মিশিগান ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্মানজনক যুব নেতৃত্ব পুরস্কার জিতলেন তাহমিদ চৌধুরী রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের বিশেষ দূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের বিশেষ দূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন রাখা ইসলামের দৃষ্টিতে ঈমানের অন্যতম একটি শাখা রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন রাখা ইসলামের দৃষ্টিতে ঈমানের অন্যতম একটি শাখা
সব খবর

১৯৮০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর, ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের আকস্মিক বিমান হামলা ও স্থল আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল আট বছরব্যাপী রক্তক্ষয়ী ইরান-ইরাক যুদ্ধ। বিপ্লবোত্তর ইরানের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সাদ্দাম হোসেন ভেবেছিলেন দ্রুতই তিনি প্রতিপক্ষকে কাবু করে ফেলতে পারবেন। কিন্তু বাস্তবে এই যুদ্ধ আধুনিক কালে দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী সংঘাত হিসেবে প্রায় আট বছর ধরে চলে, যেখানে পাঁচ লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

১৯২১ সালে জন্ম নেওয়া ইরাক রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে দেশটির উত্তেজনা ছিল। ১৯৭০-এর দশকে দুই দেশের মধ্যে অন্যতম প্রধান বিরোধের বিষয় ছিল শাত আল-আরব জলপথের নিয়ন্ত্রণ। ১৯৭৫ সালের আলজিয়ার্স চুক্তির মাধ্যমে ইরাক এই জলপথের ওপর তার নিয়ন্ত্রণের অংশ ছেড়ে দেয় এবং বিনিময়ে ইরান উত্তর ইরাকে কুর্দি বিদ্রোহীদের সমর্থন প্রত্যাহার করে। তবে ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। বিপ্লবের মাধ্যমে শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির পশ্চিমাপন্থী সরকারের পতন ঘটে এবং আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে নতুন শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। একই বছর জুলাই মাসে সাদ্দাম হোসেন ইরাকের প্রেসিডেন্ট হন। তিনি ভয় পান যে ইরানের ইসলামি বিপ্লব ইরাকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়া, সাদ্দাম ১৯৭৫ সালের সীমান্ত চুক্তি বাতিল করে শাত আল-আরবের দুই তীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, যা ছিল পারস্য উপসাগরে ইরাকের একমাত্র প্রবেশপথ।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সমর্থন নিয়ে সাদ্দাম হোসেন ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেন। বিপ্লবের পর ইরানের নাম বদলে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান রাখা হয়। শাহকে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে হামলা ও ৫২ জন মার্কিন নাগরিককে জিম্মি করার জেরে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র পশ্চিমা দেশগুলোও সাদ্দামের পক্ষে অবস্থান নেয়, ফলে ইরান আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সে সময়ে কেবল লিবিয়া ও সিরিয়া ইরানের পক্ষ নিয়েছিল।

ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানে আঞ্চলিক প্রভাব কমে গিয়েছিল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে খোমেনি নিজের নেতৃত্ব সুসংহত করতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। নতুন শাসকদের প্রতি সামরিক বাহিনীর আনুগত্য নিশ্চিত করতে বহু সামরিক কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড, কারাদণ্ড বা নির্বাসন দেওয়া হয়। ইরানের এই আপাত দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সাদ্দাম ইরাকের প্রভাব বাড়াতে ও বিদ্রোহ ঠেকাতে চেয়েছিলেন। সাদ্দাম ও খোমেনির মধ্যে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বও ছিল। বিপ্লবের আগে শাহবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে ইরান থেকে নির্বাসিত হয়ে খোমেনি ১৯৬৫ সালে ইরাকে যান এবং নাজাফে বসবাস শুরু করেন। ১৯৭৮ সালে ইরাক সরকারের চাপে তিনি ইরাক ছাড়তে বাধ্য হন এবং ফ্রান্সে চলে যান। সেখানে তিনি শিয়াদের ওপর সাদ্দামের দমন-পীড়নের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। ইরানে ইসলামি বিপ্লবের নেতা হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পর খোমেনি সাদ্দামকে ইরাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আহ্বান জানান। ইরানের সঙ্গে ইরাকের দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধও সাদ্দামের জন্য হামলার একটি অজুহাত তৈরি করে দেয়।

১৯৮০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ইরাকের বিভিন্ন বিমানঘাঁটি থেকে ১৯২টি যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশসীমা ‘ছেয়ে ফেলে’ এবং ইরানের বিভিন্ন বিমানঘাঁটি, সামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার ও নৌবন্দরে তীব্র হামলা চালানো হয়। এই হামলায় ইরানের বিমানবাহিনীর অবকাঠামোর বড় অংশ এবং অধিকাংশ জ্বালানি সংরক্ষণাগার ধ্বংস হয়ে যায়। তবে আকস্মিক হামলার পরও ইরানের যুদ্ধবিমানগুলো অধিকাংশ অক্ষত থাকে। ইরান এই হামলার নিন্দা জানায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছিল বলে অভিযোগ করে। এরপর ইরাকের পদাতিক বাহিনী ইরানের তেলসমৃদ্ধ সীমান্তবর্তী খুজেস্তান অঞ্চলে স্থল অভিযান শুরু করে। প্রথম দিকে ইরাকি বাহিনী ইরানের খোররামশাহ শহরসহ কিছু ভূখণ্ড দখল করতে সক্ষম হয়।

তবে শিগগিরই ইরানের কঠোর প্রতিরোধের মুখে ইরাকি বাহিনীর অগ্রযাত্রা থেমে যায়। নিয়মিত সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিপ্লবী মিলিশিয়ারা যোগ দেওয়ায় ইরানের প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সাদ্দাম হোসেন ভেবেছিলেন, ইসলামি বিপ্লবোত্তর ইরানের সাধারণ জনগণ বিপ্লবী সরকারকে সমর্থন দেবে না। কিন্তু বাস্তবে সাধারণ মানুষ ভিনদেশী আক্রমণ থেকে দেশ রক্ষায় বিপ্লবী সরকারকে সমর্থন দেয় এবং বহু মানুষ স্বেচ্ছাসেবী যোদ্ধা হিসেবে ইরানের বাসিজ ফোর্সে যোগ দেয়। বাসিজ যোদ্ধাদের খুব বেশি প্রশিক্ষণ ছাড়াই যুদ্ধের ময়দানে পাঠানো হতো। প্রশিক্ষিত ও দক্ষ ইরাকি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বাসিজ যোদ্ধারা ইরানের কার্যকর অস্ত্রে পরিণত হন। তারা প্রতিপক্ষের সেনাবাহিনীর ওপর ‘মানব ঢেউ’ চালাতেন, অর্থাৎ বহু যোদ্ধা একযোগে প্রতিপক্ষের ওপর আক্রমণ করতেন। এই কৌশলে যোদ্ধাদের দক্ষতার চেয়ে সংখ্যাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো, ফলে প্রাণহানির ঘটনা বেশি ঘটত। ইরানের বহু শিশুও বাসিজ যোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধে অংশ নেয়।

এভাবে ১৯৮১ সালে ইরান পাল্টা আক্রমণ শুরু করে এবং ১৯৮২ সালের শুরুতেই ইরাকি বাহিনীর হাতে হারানো প্রায় সব ভূখণ্ড পুনর্দখল করে নেয়। ওই বছরের শেষ নাগাদ ইরাকের বাহিনী যুদ্ধ শুরুর আগের সীমান্তরেখায় ফিরে গেলে দেশটির সরকার শান্তি উদ্যোগ গ্রহণ করে, কিন্তু খোমেনির নেতৃত্বাধীন ইরান তা প্রত্যাখ্যান করে। খোমেনির লক্ষ্য ছিল সাদ্দাম সরকারকে উৎখাত করা। এ লক্ষ্যে ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৮২ সালের জুলাইয়ে ইরান ইরাকের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে এবং প্রথমবার ইরাকের বন্দরনগরী বসরা দখলের চেষ্টা করে, কিন্তু ব্যর্থ হয়। পরে ইরান আরও কয়েকবার বসরা দখলের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সফল হয়নি।

ইরাক ১৯৮৪ সালে যুদ্ধে নিষিদ্ধ রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার শুরু করে। এ বিষয়ে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়ার কয়েক বছর পর জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে ইরাকের এই কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানায়। ১৯৮৮ সালের মার্চে উত্তর-পূর্ব ইরাকে বেসামরিক কুর্দিদের ওপর অন্তত ৩৯টি রাসায়নিক হামলা চালায় ইরাকি বাহিনী, কারণ কুর্দি বিদ্রোহীরা ইরানকে সমর্থন দিয়েছিল। হামলায় ইরাকের কুর্দি-অধ্যুষিত হালাবজা শহরে প্রায় পাঁচ হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে যে ইরাক সারিন ও অন্যান্য নার্ভ এজেন্ট এবং মাস্টার্ড গ্যাস ব্যবহার করেছিল। রাসায়নিক হামলায় নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই ছিলেন নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ। আরও হাজার হাজার মানুষ পরবর্তী সময়ে বিষক্রিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যায় ভুগেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা বেসামরিক লোকজনের ওপর এসব হামলার তীব্র নিন্দা জানান। ১৯২৫ সালে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী জেনেভা প্রটোকল অনুমোদনের পর নিজ দেশেই কুর্দিদের ওপর ইরাকের হামলাকে রাসায়নিক অস্ত্রের সবচেয়ে স্পষ্ট ও প্রাণঘাতী ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়।

ইরান আক্রমণাত্মক অবস্থানে চলে গেলে ইরাক নিজেদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করে তোলে, এতে যুদ্ধে একধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। সীমান্ত বরাবর বিস্তৃত একটি রণক্ষেত্রে দুই পক্ষের লড়াই চলতে থাকে। উভয় পক্ষ শহর, সামরিক স্থাপনা, তেল স্থাপনা ও তেল পরিবহনব্যবস্থার ওপর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো পারস্য উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ পাঠায়, যাতে বৈশ্বিক বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায়। ইরানের সেনাসদস্য বেশি থাকলেও ইরাকের হাতে ছিল আধুনিক অস্ত্র ও উন্নত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত দক্ষ বাহিনী। সৌদি আরব, কুয়েত ও অন্যান্য আরব দেশ সরাসরি ইরাককে সহায়তা করছিল, উদ্দেশ্য ছিল ইরানের ইসলামি বিপ্লব যেন প্রতিবেশী আরব দেশগুলোয় ছড়িয়ে পড়তে না পারে।

কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধে বারবার ব্যর্থ অভিযানগুলোর কারণে ইরানের মনোবল তত দিনে অনেকটাই ভেঙে পড়ে। ইরাকও ধারাবাহিকভাবে স্থল হামলা চালিয়ে যায়। উভয় দেশই বোঝে, এ যুদ্ধে কারও চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের আশা খুব ক্ষীণ। ১৯৮৮ সালের জুলাইয়ে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় নিরাপত্তা পরিষদের রেজোল্যুশন ৫৯৮ অনুযায়ী দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। ১৯৮৮ সালের ২০ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ইরান-ইরাক যুদ্ধ শেষ হয়। ইরান-ইরাক যুদ্ধে মোট হতাহতের সংখ্যা নিয়ে নিশ্চিত কোনো হিসাব নেই। বিভিন্ন হিসাবে এ সংখ্যা ১০ লাখ থেকে ২০ লাখ দেখানো হয়েছে। নিহত ব্যক্তির সংখ্যা আনুমানিক পাঁচ লাখ, যার মধ্যে ইরাকি বাহিনীর হামলায় সে দেশে নিহত কয়েক হাজার কুর্দিও রয়েছেন।

২০২০ সালে আল-জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাগদাদের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিটিক্যাল ডিসিশন সেন্টারের চেয়ারম্যান হাদি জালো মারি বলেন, ‘ইরান-ইরাক যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করেছিল। যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে ঘটে যাওয়া অধিকাংশ ঘটনার শিকড় এ যুদ্ধ পর্যন্ত টেনে নেওয়া যায়।’ এই যুদ্ধের কারণে দুই দেশ যে ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে গেছে, তার প্রভাব তাদের সীমানার বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। এই সংঘাত অঞ্চলটিকে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের দিকে ঠেলে দেয়, কারণ যুদ্ধটিকে সুন্নি নেতৃত্বাধীন ইরাক ও শিয়া বিপ্লবী ইরানের মধ্যকার সংঘাত হিসেবে দেখা হয়েছিল। ১৯৯০ সালে ইরাকের কুয়েত আক্রমণের পটভূমিও তৈরি হয়েছিল ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময়। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে সাদ্দাম হোসেন কয়েক বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছিলেন। তা নিয়ে বিরোধের জেরে সাদ্দাম কুয়েত আক্রমণ করে বসেন। কুয়েত আক্রমণের পর ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে ইরাকের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট। এরপর জাতিসংঘের আরোপ করা কঠোর নিষেধাজ্ঞায় ইরাকের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনে সাদ্দাম হোসেনের সরকারের পতন ঘটে। ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ইরাকের আদালতের রায়ের পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে সাদ্দাম হোসেনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী নিউ ইয়র্কে ট্রাম্প দম্পতির অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে তারেক ও জুবাইদা নিউ ইয়র্কে ট্রাম্প দম্পতির অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে তারেক ও জুবাইদা যুক্তরাষ্ট্রে এরদোয়ানের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক, সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার যুক্তরাষ্ট্রে এরদোয়ানের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক, সম্পর্ক জোরদারের অঙ্গীকার চলন্ত মেট্রোরেলের দরজা খুলে বিভ্রাট, ২৬ মিনিট বন্ধ ট্রেন চলাচল চলন্ত মেট্রোরেলের দরজা খুলে বিভ্রাট, ২৬ মিনিট বন্ধ ট্রেন চলাচল সরকারি কেনাকাটায় ২০ বছরের সুযোগবঞ্চিতদের জন্য নতুন সুযোগ ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ পাঠ্যবই পৌঁছানোর লক্ষ্য ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হাতে শতভাগ পাঠ্যবই পৌঁছানোর লক্ষ্য সারের সংকট নেই বলা কুড়িগ্রামের কৃষি কর্মকর্তা স্ট্যান্ড রিলিজ সারের সংকট নেই বলা কুড়িগ্রামের কৃষি কর্মকর্তা স্ট্যান্ড রিলিজ মিশিগান ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্মানজনক যুব নেতৃত্ব পুরস্কার জিতলেন তাহমিদ চৌধুরী মিশিগান ডেমোক্রেটিক পার্টির সম্মানজনক যুব নেতৃত্ব পুরস্কার জিতলেন তাহমিদ চৌধুরী রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের বিশেষ দূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘের বিশেষ দূতের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন রাখা ইসলামের দৃষ্টিতে ঈমানের অন্যতম একটি শাখা রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন রাখা ইসলামের দৃষ্টিতে ঈমানের অন্যতম একটি শাখা
সব খবর